বাংলা হান্ট ডেস্ক : ক্রমশ বাড়তে থাকা বিদ্যুতের বিল সাধারণ মানুষের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার সৌরবিদ্যুৎকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই উদ্যোগেরই অংশ প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা(PM Surya Ghar Yojana),এখন পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক সাড়া ফেলতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার (PM Surya Ghar Yojana) সুবিধা
এই প্রকল্পের আওতায় বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল কমানোর সুযোগ দেখেই অনেকেই আবেদন করছেন। সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাড়ির দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। আলো, পাখা, টেলিভিশন-সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিডে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে সেই বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করেই গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হবে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে এই প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতেই বহু পরিবার এখন সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শিবিরে উপস্থিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ নিজেদের আধার ও মোবাইল নম্বর জমা দিয়ে প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
জানা গেছে, যেসব পরিবার মাসে প্রায় ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য ১ থেকে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। এই ধরনের ব্যবস্থা করতে আনুমানিক ৭০ হাজার থেকে ১.৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তবে সরকারি ভর্তুকি হিসেবে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। এর ফলে প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ খাতে ৭০০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।
আবার যাঁদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিটের মধ্যে, তাঁদের জন্য ২ থেকে ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল উপযোগী। এই ক্ষেত্রে প্রকল্পের খরচ ১.৪০ লক্ষ থেকে ২.১০ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। ভর্তুকি মিলবে সর্বাধিক ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সাহায্যে প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, যা বিদ্যুৎ বিলে ১,৪০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় এনে দিতে পারে। ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সিস্টেম স্থাপন করলেও সর্বোচ্চ ভর্তুকির পরিমাণ ৭৮ হাজার টাকাই থাকবে।

আরও পড়ুন : পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে বড় ঘোষণা, সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর দিল কেন্দ্র
বিদ্যুৎ দপ্তরের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, “প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনায় আবেদন করার দু’সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার লোক বাড়িতে পৌঁছে যাবেন। তাঁরাই বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসানো এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের কাজটা করবেন।” পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি গৃহস্থের মাসিক ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আগামী দিনে সূর্য ঘর যোজনার প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।













