বাংলাহান্ট ডেস্ক: দিল্লি থেকে নয়ডায় এসে সাধারণ গৃহবধূর জীবন কাটাচ্ছিলেন শ্বেতা শর্মা। কিন্তু তাঁর চোখে ছিল বড় কিছু করে সাফল্য (Success Story) অর্জন করার স্বপ্ন। ছোটবেলা থেকেই এমব্রয়ডারি করা পোশাকের প্রতি আলাদা টান ছিল তাঁর। নিজের পোশাক নিজেই ডিজাইন করতেন তিনি। সূক্ষ্ম কারুকাজ আর হাতের নিপুণ কাজ দেখে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়রা প্রায়ই জানতে চাইতেন, কোথা থেকে এমন পোশাক তৈরি করান তিনি। সেই প্রশংসাই একসময় তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শখ ধীরে ধীরে পরিণত হয় ব্যবসায়। আজ সেই শখের হাত ধরেই গড়ে উঠেছে ‘সুই ধাগা বাই শ্বেতা’ নামের সফল ব্র্যান্ড।
শ্বেতা শর্মার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
শ্বেতার জীবনের পথ কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৩ সালে তাঁর স্বামীর ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন শুরু হয়। সেই কঠিন সময়েই নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১৫ সালে ভাইয়ের কাছ থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে একটি সেলাই মেশিন কেনেন। শুরু হয় ছোট্ট উদ্যোগ। প্রথমদিকে নিজের ডিজাইন করা পোশাক বন্ধু ও আত্মীয়দের দেখাতেন তিনি। তাঁদের প্রশংসা এবং অর্ডার থেকেই ধীরে ধীরে ব্যবসার প্রসার ঘটে। কোনও ফ্যাশন ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষা না নিয়েও শুধুমাত্র মেধা ও পরিশ্রমের জোরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন শ্বেতা।
আরও পড়ুন: মেঘ কাটলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাছেই নেওড়া ভ্যালি, গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন এই পাহাড়ি গ্রামে
ক্রমশ এমব্রয়ডারি ও হাতের কাজের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাঁর পোশাক। ব্যবসার বিস্তার ঘটাতে ২০১৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুই ধাগা বাই শ্বেতা’। এরপর অনলাইনে অর্ডার নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে শুধু ভারত নয়, বিদেশ থেকেও আসছে তাঁর ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, কেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশ থেকে নিয়মিত অর্ডার পান তিনি। ভারতীয় ঐতিহ্য ও সূক্ষ্ম হাতের কারুশিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
মাত্র একজন কারিগরকে নিয়ে শুরু হয়েছিল শ্বেতার এই সফর। বর্তমানে তাঁর সংস্থায় ৩০ জনেরও বেশি কারিগর কাজ করছেন। অর্ডারের চাপ বাড়লে দেশের বিভিন্ন শহরের বিক্রেতাদেরও সাহায্য নিতে হয় তাঁকে। ইন্দোর-সহ একাধিক শহরে তাঁর সহযোগী রয়েছেন। শ্বেতার কথায়, ভারতীয় কারুশিল্প অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক ডিজাইনের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। তাঁর সংস্থার পোশাকগুলো মেশিনে নয়, মূলত হাতে সূচিকর্ম করে তৈরি হয়, যা ক্রেতাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আর্মি ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলায় মৃত্যু ১৫ পাক সেনার! হামলার দায় স্বীকার টিটিপি-র
শুরুতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার সাধারণ স্যুট তৈরি করলেও এখন তাঁর সংস্থার গড় অর্ডারের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ২৫ হাজার টাকায়। এমনকি বিদেশের এক গ্রাহকের জন্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের লেহেঙ্গাও তৈরি করেছেন তিনি, যা এখনও পর্যন্ত তাঁর সংস্থার সবচেয়ে দামী পোশাক। বর্তমানে তাঁর ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। মাত্র ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে শুরু করা এক গৃহবধূর এই সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ অসংখ্য মহিলার কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।













