বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট প্রকাশ্যে এসেছে। মূলত, এবার ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির (India UK Trade Deal) বিষয়ে একটি বড় আপডেট মিলেছে। এই চুক্তিটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে কার্যকর হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারত ও ব্রিটেন গত বছরের জুলাই মাসে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করেছে। একজন সরকারি আধিকারিক এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির অধীনে, ৯৯ শতাংশ ভারতীয় রফতানি কোনও শুল্ক ছাড়াই ব্রিটিশ বাজারে প্রবেশ করবে। একই সঙ্গে, ভারত গাড়ি এবং হুইস্কির মতো ব্রিটিশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। এই চুক্তির লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করা। যা বর্তমানে প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই চুক্তিকে বলা হচ্ছে কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (CETA)।
কবে থেকে লাগু ভারত-ব্রিটেন ট্রেড ডিল (India UK Trade Deal)?
জানিয়ে রাখি যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। এদিকে, এই চুক্তিটি ইতিমধ্যেই হাউস অফ কমন্সে বিতর্কিত হয়েছে এবং হাউস অফ লর্ডসেও আলোচনা করা হবে। ভারতে, এই ধরণের চুক্তিগুলি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক অনুমোদনের পর, ২ টি দেশ একটি নির্দিষ্ট তারিখে যৌথভাবে এগুলি বাস্তবায়ন করবে।

ভারত ও ব্রিটেনের কী লাভ হবে: এই চুক্তির আওতায়, ভারত তাৎক্ষণিকভাবে স্কচ হুইস্কির আমদানি শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি আরও ৪০ শতাংশে কমিয়ে আনা হবে। একইভাবে, ৫ বছরে গাড়ির আমদানি শুল্ক বর্তমান ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। বিনিময়ে, ভারতীয় রফতানিকারীরা টেক্সটাইল থেকে শুরু করে জুতো, রত্ন ও গহনা, ক্রীড়া সামগ্রী এবং খেলনার মতো পণ্যের জন্য ব্রিটেনের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পাবে। এছাড়াও, ভারত ব্রিটিশ চকোলেট, বিস্কুট এবং প্রসাধনীর মতো ভোগ্যপণ্যের ওপরও শুল্ক কমাবে।
আরও পড়ুন: কোটিপতি পাত্রী! কার সঙ্গে বিবাহ ঈশান কিষাণের? ‘ফাঁস’ করলেন তারকা ক্রিকেটারের ঠাকুরদা
CETA-এর পাশাপাশি DCC কার্যকর হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে: CETA-র পাশাপাশি, দুই দেশ একটি ডাবল কন্ট্রিবিউশন্স কনভেনশন (DCC) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিটি উভয় দেশেই অস্থায়ী কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা অবদান প্রদান থেকে রক্ষা করবে। আধিকারিক জানান, CETA এবং DCC উভয়ই একইসঙ্গে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: গোটা বিশ্বকে চমকে দিলেন মুকেশ আম্বানি! Google-Microsoft সহ ১৫ টি সংস্থার সঙ্গে মেলালেন হাত
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দ্রুত বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন: জানিয়ে রাখি যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কায়ার স্টারমার ২০২৫ সালে ভারত সফরের সময় চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি এই চুক্তিকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লন্ডন সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (৩৪ বিলিয়ন ডলার) বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি এটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে কার্যকর হয়, সেক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলিতে শুল্ক বাধা হ্রাস করার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হবে।












