বাংলার পাঠ্যবইতে শ্যামাপ্রসাদ, ‘তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না’ সাংবাদিকদের জানালেন সৌগত

Published on:

Published on:

Sougato Roy talks about Shyamaprasad Mukherjee in school books
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আজ অর্থাৎ সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিরাট ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন আগামীদিনে বাংলার পাঠ্যবই গুলিতে স্থান পেতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের বিষয়টি। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এদিন সাংবাদিকদের সামনে মেজাজ হারালেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy)।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গে সৌগত রায়

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এদিন সাফ জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সাথে তিনি একমত নন। তাঁর কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একজন বড় শিক্ষাবিদ ছিলেন। মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্বিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না। একদিনও জেলে যাননি। গান্ধীজিরা যখন জেলে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ তখন ফজলুল হকের সাথে শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় ছিলেন।’

সৌগত রায়ের স্পষ্ট দাবী, ‘শ্যামাপ্রসাদের লড়াই স্বাধীনতার আগে স্বাধীনতার পরে নয়। তিনি কাশ্মীরে এক নিশান এক বিধান এই দাবি নিয়ে যেতে গিয়েছিলেন কিন্তু ওকে অন্যায় ভাবে জেলে দেওয়া হয় এবং জেলেই ওর মৃত্যু হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তৎকালীন বিজেপির জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কিন্তু দেশের মূল যে লড়াই বিয়াল্লিশের আগষ্ট আন্দোলন এই সময় তিনি ছিলেন না।’

আরও পড়ুনঃ পাল্টাতে চলেছে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস! জুড়বে শ্যামাপ্রসাদের অবদান, বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

এরপরেই এদিন প্রশ্ন ওঠে বারুইপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। ঘটনাপ্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন সৌগত রায় জানান পুলিশ নিজের তৎপর হয়নি তো। শুধু মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিচ্ছেন, পুলিশ তো আগের মতোই রয়েছে।’ এখানেই না থেমে তাঁর অভিযোগ, ‘তারওপর পুলিশ একটা অত্যাচারী ভুমিকা নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেতে দেয়নি কাল। আজও যেতে দেওয়া হয়নি পুরো রাস্তা পুলিশে ভর্তি ছিল যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না যেতে পারেন। কিন্তু এটাই সুখের বিষয় যে আমাদের দুজন এমপি প্রতিমা মন্ডল এবং ওখানকার এম এল এ তথা প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ওখানে গিয়ে পৌঁছেছেন। আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি।’

পুলিশের কাছে এদিন তিনি দাবী জানিয়েছেন অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হোক। একইসাথে তিনি বলেছেন, শুনেছি কোনো একটি ঘটনায় বিজিপির একজন নেতা দোষীকে ছড়িয়ে এনেছিলেন, আমরা আশা করব প্রকৃত দোষীরা এবার সাজা পাবে।’

এরপরই এদিন একজন সাংবাদিক বলেন, বিজেপি বলছে ওনারা যখন রাজ্যের বিরোধী দল ছিল তখন ওনাদের কোথাও যেতে দেওয়া হত না। কিন্তু ওনারা যেতে দিচ্ছেন। তখনই মেজাজ হারিয়ে বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ‘ভালো তো, আপনি কি বিজিপির কথাই বলছেন?’