বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্কুল সার্ভিস কমিশনের চাকরি না পেয়ে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন একাধিক প্রার্থী (SSC Recruitment Scam)। সেই মামলার ভিত্তিতেই গত বছর এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল হয় এবং প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারান। কিন্তু বুধবার রাতে প্রকাশিত এসএসসি-র নতুন তালিকা ঘিরে সেই মামলার ন্যায্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
‘দাগি’ প্রার্থীদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ চাকরিহারাদের (SSC Recruitment Scam)
SSC সূত্রে প্রকাশিত ওয়েটিং লিস্টের ‘দাগি’ প্রার্থীদের সম্পূর্ণ তালিকা হাতে পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা মামলা করেছিলেন, তাঁদের অনেকের নামই রয়েছে সিবিআইয়ের দেওয়া ‘দাগি’ তালিকায়। চাকরিহারা শিক্ষকদের দাবি, মামলাকারীদের অন্যতম লক্ষ্মী টুঙ্গার নামও রয়েছে এই ‘দাগি’ তালিকায়। ফলে যাঁরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেও চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা এখন প্রশ্ন তুলছেন এই মামলার আদৌ কোনও নৈতিক বা আইনি ভিত্তি ছিল কি না।
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের অন্যতম নেতা মেহবুব মণ্ডল বলেন, “এটি শুরু থেকেই একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বুধবারের তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে গেল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই নির্দোষ ও যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্যানেল বাতিল করানো হয়েছিল। এর জন্য যেমন রাজ্য সরকারের দুর্নীতি দায়ী, তেমনই রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত কিছু আইনজীবীর ভূমিকাও রয়েছে।”
বুধবার গভীর রাতে স্কুল সার্ভিস কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ২০১৬ সালের প্যানেলে নাম থাকলেও যাঁরা চাকরি পাননি, অর্থাৎ ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী, ওয়েটিং লিস্টে থাকা ‘দাগি’ শিক্ষক পদপ্রার্থীর সংখ্যা ২৫০ জন এবং ‘দাগি’ শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা ১৮৫৩ জন। SSC সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত প্রার্থীর ওএমআর শিটে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে (SSC Recruitment Scam)।
হাইকোর্টের নির্দেশে প্রকাশিত এই তালিকায় প্রত্যেক ‘দাগি’ প্রার্থীর নাম, রোল নম্বর, বাবার নাম এবং বিষয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ রয়েছে। চাকরিহারা গ্রুপ-সি কর্মী অমিত মণ্ডল বলেন, “যাঁদের মামলার ভিত্তিতে পুরো প্যানেল বাতিল হল, তাঁরাই তো এখন ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত। লক্ষ্মী টুঙ্গা-সহ একাধিক মামলাকারীর নাম এই তালিকায় রয়েছে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও স্কুল সার্ভিস কমিশন ১৮০৬ জন ‘দাগি’ শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকা প্রকাশ করেছিল। পাশাপাশি গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে মোট ৩৫১২ জনের ‘দাগি’ তালিকা সামনে আনা হয়েছিল। নতুন এই তালিকা প্রকাশের পর এসএসসি নিয়োগ মামলার গোটা প্রক্রিয়া এবং তার পরিণতি নিয়ে ফের একবার তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে (SSC Recruitment Scam)।












