বাংলাহান্ট ডেস্ক: কর্নাটকের (Karnataka) মহীশূরে প্রকাশ্যে প্রস্রাব রুখতে অভিনব উদ্যোগ নিল স্থানীয় প্রশাসন। শহরের রাস্তার ধারে হঠাৎ করেই দেখা গিয়েছে সারি সারি স্টেইনলেস স্টিলের চকচকে প্যানেল। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, রাস্তার পাশে বসানো হয়েছে বিশাল আয়না। কিন্তু এই ব্যবস্থার নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ উদ্দেশ্য, প্রকাশ্যে প্রস্রাবের অভ্যাসে লাগাম টানা। মহীশূর সিটি কর্পোরেশনের এই নতুন উদ্যোগ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা রুখতে কর্নাটকে (Karnataka) রাস্তার ধারে বসল স্টিলের প্যানেল
মহীশূর সিটি কর্পোরেশন বা এমসিসি শহরের মাদার টেরেসা রোডের কাছে প্রায় ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি ফাঁকা কম্পাউন্ড ওয়ালে এই প্রতিফলক প্যানেল বসিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কেউ ওই দেওয়ালের সামনে দাঁড়ালেই তার প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। ফলে পথচারীরাও সহজেই দেখতে পাচ্ছেন কে সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই, লোকলজ্জার কারণে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার প্রবণতা কমছে। পুরসভার মতে, বহুদিন ধরেই ওই এলাকা এই সমস্যায় জর্জরিত ছিল।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধ পাগলামির সমান! অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে কী জানাল পাকিস্তান?
শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতের সময়েও যাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকে, তার জন্য প্যানেলের চারপাশে বসানো হয়েছে এলইডি আলো। রাস্তার আলো জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোগুলিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠছে। প্রশাসনের বক্তব্য, রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অনেকে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতেন। নতুন আলোকসজ্জার ফলে সেই সুযোগ আর থাকছে না। ফলে গোটা এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মহীশূর পুরসভার দাবি, শুধুমাত্র সতর্কীকরণ বোর্ড বা প্রচার চালিয়ে এতদিন কোনও উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু আয়নার মতো স্টিল প্যানেল বসানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন চোখে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার ঘটনা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের এক বড় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: ইস্তফা দিতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা! সংবিধান মেনে বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে অনেকেই প্রশংসা করলেও, একাংশের প্রশ্ন, আয়না বসানোর বদলে আরও বেশি সংখ্যায় পাবলিক টয়লেট তৈরি করলেই কি বেশি কার্যকর হত না? যদিও প্রশাসনের দাবি, ওই এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যেই একাধিক শৌচালয় রয়েছে। কিন্তু অনেকেই সেগুলি ব্যবহার না করে রাস্তার ধারে প্রস্রাব করেন। তাই মানুষের আচরণ বদলাতেই এই মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মহীশূর সিটি কর্পোরেশন (Karnataka)।













