হচ্ছে একাধিক পরিবর্তন! রাম মন্দিরের অনুদান গোনার ক্ষেত্রে এবার কড়া সিদ্ধান্ত, মানতে হবে কী কী নিয়ম?

Published on:

Published on:

Strict decision taken regarding the counting of donations for the Ayodhya Ram Temple.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ayodhya Ram Temple) অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনল শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরে দানের টাকা চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে যাঁরা অনুদানের নগদ অর্থ, সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা বিধি কার্যকর হবে। গণনা কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রত্যেক কর্মীকে দু’দফা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিশেষ নীল রঙের ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের পকেট থাকবে না। এর ফলে অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী গোপনে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে ট্রাস্ট। সাম্প্রতিক বিতর্কের পর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Temple) অনুদান গোনার ক্ষেত্রে এবার কড়া সিদ্ধান্ত

শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নয়, অনুদান গণনার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াতেও বদল আনা হয়েছে। এতদিন টেবিল-চেয়ারে বসে কর্মীরা টাকা গুনতেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে তাঁদের মেঝেতে বসেই সেই কাজ করতে হবে। গণনা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ব্যাগ কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি গণনা কক্ষে ঢোকার আগে কর্মীদের জুতো ও চটি বাইরে খুলে রাখতে হবে। ট্রাস্টের মতে, এই নিয়মগুলির উদ্দেশ্য কোনও কর্মীকে সন্দেহের চোখে দেখা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করে তোলা। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অনুদান জমা পড়ে। সেই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে কোনও বিতর্ক এড়াতেই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে (Ayodhya Ram Temple)।

আরও পড়ুন: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে শুরু করেন UPSC-র প্রস্তুতি! প্রথমবারেই সফল অঞ্জনি

এদিকে অনুদান চুরির অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ইতিমধ্যেই একাধিক নথি সংগ্রহ করেছে এবং আর্থিক লেনদেনের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার রামমন্দির ট্রাস্টের গত পাঁচ বছরের সমস্ত হিসাবের একটি বৃহৎ অডিট করা হবে। এই অডিটের আওতায় শুধু নগদ অনুদানই নয়, মন্দির নির্মাণে হওয়া ব্যয়, সোনা, রুপো, গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান দানেরও বিস্তারিত হিসাব পরীক্ষা করা হবে। কোনও ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই বিস্তৃত অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, এর মাধ্যমে পুরো আর্থিক ব্যবস্থার একটি স্বচ্ছ চিত্র সামনে আসবে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন রামমন্দিরের অনুদানের অর্থে অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই উত্তরপ্রদেশ সরকার দ্রুত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর থেকে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তের পরিধি শুধু নিম্নস্তরের কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অভিযোগের সূত্র ধরে ট্রাস্টের একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, প্রাক্তন ট্রাস্টি অনিল মিশ্র এবং মন্দিরের আধিকারিক গোপাল রাও। তদন্তকারীরা প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।

Strict decision taken regarding the counting of donations for the Ayodhya Ram Temple

আরও পড়ুন:মাত্র ২৭০০ টাকায় সুন্দরবনে ইলিশ উৎসব! ৩ দিনের বিশেষ প্যাকেজে কী কী থাকছে জানেন?

রামমন্দির (Ayodhya Ram Temple) দেশের কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই এই ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। সেই কারণেই ট্রাস্ট একদিকে যেমন নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাও পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে জোর দিচ্ছে। ট্রাস্টের আশা, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে অনুদান গণনার পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, সুরক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। একই সঙ্গে চলমান তদন্ত ও অডিটের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলি ভবিষ্যতে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।