বাংলা হান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) দিল্লির আদিত্য পোদ্দারের (Aditya Poddar)। একসময় কর্পোরেট দুনিয়ায় চাকরি করতেন আদিত্য। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, ভারতের বাজারে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের চাহিদা থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলি অনেক সময় সহজলভ্য নয়। দাম বেশি হওয়া, আবার অনেক পণ্যের স্বাদ পছন্দ না হওয়ার কারণে প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন যোগ করতে পারেন না বহু মানুষ। সেই সমস্যার সমাধানের ভাবনা থেকেই ২০২২ সালে নিজের সঞ্চয় এবং পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতায় ‘ফিটফিস্ট’ (FitFeast) নামে একটি স্টার্টআপ শুরু করেন আদিত্য। আজ সেই ছোট উদ্যোগই প্রতি মাসে ২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব করা একটি দ্রুত বেড়ে ওঠা D2C ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
আদিত্য পোদ্দারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
আদিত্য জেআইআইটি নয়ডা থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বি.টেক করার পর প্রায় দু’বছর অ্যাক্সা-র অ্যানালিটিক্স বিভাগে কাজ করেছিলেন। নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সময়ই প্রোটিনজাত পণ্যের বাজার সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি লক্ষ্য করেন, স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা বললেও বাজারে থাকা অনেক প্রোটিন পণ্য সাধারণ ক্রেতার বাজেটের বাইরে। ফলে এমন একটি ব্র্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা করেন, যেখানে পুষ্টির পাশাপাশি স্বাদকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে শুধু ভাবনা থেকেই যে ব্যবসা দাঁড় করানো যায় না, সেটা তিনি ভালোভাবেই জানতেন। তাই পণ্য বাজারে আনার আগে খাদ্যপ্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা শুরু করেন।
আরও পড়ুন: ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন ৫০০ কোটি ডলার! ভারতের সাহায্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন নেপালের প্রেসিডেন্টের
প্রায় ছ’মাস থেকে এক বছর ধরে চলা সেই গবেষণায় স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং দামের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়। আদিত্য ও তাঁর দল ৫০টিরও বেশি ফর্মুলেশন নিয়ে পরীক্ষা করেন। শুরুর দিকে উপযুক্ত তৃতীয় পক্ষের প্রস্তুতকারক খুঁজে পাওয়া এবং দক্ষ কর্মী নিয়ে দল তৈরি করা সহজ ছিল না। ধীরে ধীরে সেই সমস্যাগুলি কাটিয়ে ওঠে সংস্থা। এরপর একে একে বাজারে আসে প্রোটিন শেক, প্রোটিন বার, প্রোটিন চিপস, কুকিজ এবং পিনাট বাটারের মতো নানা পণ্য। সাশ্রয়ী দামে প্রোটিন পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পণ্যের মান নিয়েও গুরুত্ব দেয় সংস্থাটি। প্রতিটি ব্যাচ NABL-স্বীকৃত ল্যাবে পরীক্ষা করানো এবং পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট দুনিয়ার পরিচিত মুখদের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে ফিটফিস্ট। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার শেন ওয়াটসন এবং ভারতীয় ক্রিকেটার অক্ষর প্যাটেলের মতো তারকাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সংস্থার ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডার ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও যুক্ত করার দাবি করা হয়েছে। শেন ওয়াটসনের সহযোগিতায় বিশেষ প্রোটিন কুকিও বাজারে এনেছে ব্র্যান্ডটি। পরে ‘শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’-র চতুর্থ সিজনে অংশ নেওয়ার পর সংস্থাটির পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে তাদের ব্যবসার প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশই আসে মেট্রো শহরের বাইরে থেকে, যা ছোট শহর ও শহরতলির বাজারে প্রোটিন পণ্যের চাহিদার ছবিটিও তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: এই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে গৌতম গম্ভীর ও শুভমান গিলের! দ্রুত সমাধান খুঁজছে BCCI
প্রথম মাসে মাত্র ১ লক্ষ টাকার রাজস্ব দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ফিটফিস্ট। সেই জায়গা থেকে বর্তমানে ২২ জনের দল নিয়ে প্রতি মাসে ২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব করার দাবি করছে সংস্থাটি। তাদের বিক্রির প্রায় ৮৫ শতাংশই সরাসরি নিজেদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আসে। সংস্থার লক্ষ্যও এখন আরও বড়—২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২.৪ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৭ কোটি টাকা বার্ষিক নিট রাজস্ব অর্জনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। আগামী দুই বছরের মধ্যে বার্ষিক ১০০ কোটি টাকার ব্যবসায় পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন আদিত্য। কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে নিজের সমস্যার মধ্যেই ব্যবসার সুযোগ খুঁজে নেওয়া তাঁর এই যাত্রা তাই নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের কাছেও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে (Success Story)।













