চাকরি ছেড়ে শুরু করেন অভিনব স্টার্টআপ! তাতেই সাফল্য, বছরে ২৪ লক্ষের আয় পুণের এই দম্পতির

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পুনের অমর ও অক্ষতা পাডওয়ালের সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ। একদিকে অমর কাজ করেছেন জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ পঞ্চায়েত এবং চলচ্চিত্র বীর সাভারকর-এর মতো বড় প্রকল্পে স্ক্রিপ্ট সুপারভাইজার হিসেবে, অন্যদিকে অক্ষতা ছিলেন একজন সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কর্পোরেট জীবনে স্থায়িত্ব ও ভালো আয় থাকা সত্ত্বেও দু’জনের মন পড়ে ছিল অন্য কোথাও। ব্যস্ত শহুরে জীবনের একঘেয়েমি ছেড়ে তাঁরা চেয়েছিলেন প্রকৃতির কাছাকাছি, স্বনির্ভর একটি জীবন গড়ে তুলতে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় কাজের গতি কমে গেলে তাঁরা সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। চাকরি ছেড়ে গ্রামের পথে হাঁটেন এবং শুরু করেন এক নতুন অধ্যায়, যা আজ তাঁদের বছরে ২৪ লক্ষ টাকারও বেশি আয়ের মালিক করেছে।

অমর ও অক্ষতা পাডওয়ালের অসাধারণ সাফল্যের গল্প (Success Story)

অমর চিত্রনাট্য রচনায় ডিপ্লোমা অর্জন করেছিলেন এবং বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অক্ষতা হিন্দি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরির কাজ করতেন। লকডাউনের সময় ভাড়া করা বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়ে তাঁরা অক্ষতার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখানেই অক্ষতার কাকা শিবাজি শেটে তাঁদের একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘর ব্যবহারের অনুমতি দেন। মাত্র ৭০০ বর্গফুট জায়গা এবং সীমিত পুঁজি নিয়ে শুরু হয় তাঁদের উদ্যোগ। শ্রমিক নিয়োগ করার সামর্থ্য ছিল না বলে নিজেরাই জমি পরিষ্কার করেন, বাঁশের কাঠামো তৈরি করেন এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলেন। অনেকেই তাঁদের সিদ্ধান্তকে অবাস্তব বলে মনে করেছিলেন, কিন্তু সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁরা নিজেদের লক্ষ্যেই অটল ছিলেন।

আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারি কর্মীদের লটারি! ২০% DA বাড়ানোয় বেতন কতটা বাড়বে জানুন

মাশরুম চাষের ধারণা আসে ইউটিউবের একটি ভিডিও থেকে। সেখানে একজন স্থানীয় কৃষকের সফলতার গল্প দেখে অনুপ্রাণিত হন অমর। স্বল্প বিনিয়োগে শুরু করা যায় এবং দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব— এই কারণেই তাঁরা অয়েস্টার মাশরুম চাষকে বেছে নেন। ধীরে ধীরে ‘নির্বাণ ফ্রেশ’ নামে তাঁদের কৃষি-স্টার্টআপ গড়ে ওঠে। খড়ের মতো কৃষি বর্জ্য ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাশরুম মুম্বই ও পুনের ব্যবসায়িক গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা শুরু হয়। প্রতি কেজি মাশরুমের দাম প্রায় ২৫০ টাকা হলেও মান ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে দ্রুতই বাজারে পরিচিতি পেতে শুরু করে তাঁদের উদ্যোগ।

শুধু তাজা মাশরুম বিক্রি করেই থেমে থাকেননি অমর ও অক্ষতা। উৎপাদিত মাশরুমের কোনও অংশ যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য তাঁরা মূল্য সংযোজিত বিভিন্ন পণ্য বাজারে আনেন। মাশরুম পাউডার, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ মিক্স, কারি মিক্স এমনকি মাশরুম থেকে তৈরি চকোলেটও তাঁদের পণ্যের তালিকায় রয়েছে। ব্যবহৃত মাশরুম বেডকে তাঁরা ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচোর সারে পরিণত করে বিক্রি করেন। ফলে একদিকে যেমন অপচয় কমেছে, অন্যদিকে আয়ের নতুন পথও তৈরি হয়েছে। ৭০০টি মাশরুম বেড দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন ৩,৫০০টি বেডে পৌঁছেছে। পাশাপাশি অন্যান্য কৃষক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁরা এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ৯,০০০ বেডে পৌঁছেছে।

Success Story of Amar and Akshata will amaze you.

আরও পড়ুন: সুন্দরবনের জন্য বাজেটে বড় উপহার, হাসপাতাল থেকে বাঁধ নির্মাণে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা

বর্তমানে তাঁদের খামারে ১০ জন কর্মী নিয়মিত কাজ করেন। মুম্বইয়ে একটি পৃথক দল বিপণন ও অনলাইন বিক্রির দায়িত্ব সামলায়। তাজা মাশরুম ও বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্যের বিক্রি মিলিয়ে প্রতি মাসে ২ লক্ষ টাকারও বেশি আয় করেন এই দম্পতি। অর্থাৎ বছরে তাঁদের আয় ২৪ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না অমর ও অক্ষতা। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উৎপাদন আরও বাড়ানো, স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁদের মাশরুম পণ্য রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘর থেকে শুরু হওয়া তাঁদের এই সাফল্যের (Success Story) যাত্রা আজ প্রমাণ করে দিয়েছে, সাহস, অধ্যবসায় এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছা থাকলে সাফল্যের রাস্তা তৈরি করা সম্ভব।