প্রথমে IIT-তে সফল, পরে UPSC-তে বাজিমাত! শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই স্বপ্নপূরণ কাজলের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা শুধু একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়, বরং সফলভাবে (Success Story) স্বপ্নপূরণের এক দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা। সেই যাত্রাপথে অনেকেই বাধার মুখে থেমে যান, আবার কেউ কেউ প্রতিকূলতাকেই সাফল্যের সোপান বানিয়ে এগিয়ে যান। কেরালার কাসারগোড় জেলার নীলেশ্বরের বাসিন্দা কাজল রাজুর গল্প তেমনই এক অনুপ্রেরণার কাহিনি। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, একাধিক ব্যর্থতা এবং চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে যাননি। অবশেষে চতুর্থ প্রচেষ্টায় UPSC পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ১৬৭তম স্থান অর্জন করে তিনি আইএএস হওয়ার স্বপ্নের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন।

কাজল রাজুর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

কাজল জন্ম থেকেই ফোমেলিয়া সিনড্রোম নামের একটি বিরল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগের কারণে তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশটি সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয়নি। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা কখনও তাঁর আত্মবিশ্বাস বা মানসিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারেনি। বরং ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের সাফল্য নির্ভর করে তার পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং চিন্তাশক্তির উপর, শারীরিক গঠন বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের উপর নয়। জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি সেই বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়েছেন এবং নিজের যোগ্যতার জোরেই একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন।

আরও পড়ুন: বাড়বে দুর্যোগ! রাত পোহালেই দক্ষিণবঙ্গে তাণ্ডব, ৪ জেলায় সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দফতর

শিক্ষাজীবনেও কাজল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান IIT মাদ্রাস থেকে উন্নয়ন অধ্যয়নে সমন্বিত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজে পড়াকালীনই তাঁর মনে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা জন্ম নেয়। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন তাঁকে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করে। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি পূর্ণ উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রমের ফলও দ্রুত পান। প্রথম প্রচেষ্টাতেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সর্বভারতীয় ৯১০তম স্থান অর্জন করেন এবং ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস (IRMS)-এ নির্বাচিত হন।

তবে প্রথম সাফল্যেই সন্তুষ্ট হননি কাজল। তাঁর লক্ষ্য ছিল আরও বড়— ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা আইএএস। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু এরপরের পথ মোটেও সহজ ছিল না। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাঁর র‍্যাঙ্ক আগের তুলনায় নেমে যায় এবং পরবর্তী এক পর্যায়ে তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একের পর এক ধাক্কা অনেককেই হতাশ করে দিতে পারে, কিন্তু কাজল হার মানেননি। এদিকে আইআরএমএস-এ নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে রেলওয়ে পরিষেবার প্রশিক্ষণও নিতে হচ্ছিল। চাকরির দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ এবং ব্যক্তিগত জীবনের চাপ সামলে ইউপিএসসির মতো পরীক্ষার জন্য সময় বের করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবুও তিনি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন এবং নিজের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন।

Success Story of Kajal Raju will amaze you.

আরও পড়ুন: ফ্রিজে রাখা দইয়ের তলায় জমা জলই হতে পারে সুপারফুড, জানুন কেন?

অবশেষে সেই অধ্যবসায়েরই ফল মিলেছে। চতুর্থ প্রচেষ্টায় কাজল রাজু সর্বভারতীয় ১৬৭তম স্থান অর্জন করে নতুন সাফল্যের ইতিহাস গড়েছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি ভালো র‍্যাঙ্ক পাওয়ার গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক জীবন্ত উদাহরণ। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, ব্যর্থতার হতাশা এবং কর্মজীবনের চাপ— সবকিছুকে পিছনে ফেলে তিনি প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় সংকল্প ও নিরলস পরিশ্রম থাকলে কোনও স্বপ্নই অধরা থাকে না। আজ কাজল রাজুর এই সাফল্য (Success Story) হাজার হাজার ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে নতুন করে লড়াই করার এবং নিজের লক্ষ্যকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।