ফ্রিজে রাখা দইয়ের তলায় জমা জলই হতে পারে সুপারফুড, জানুন কেন?

Published on:

Published on:

The water at the bottom of curd can be a superfood, know why ?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সুস্থ থাকতে অনেকেই নিয়মিত দই (Curd) খান। তবে দইয়ের পাত্রে জমে থাকা পাতলা জলটিকে অধিকাংশ মানুষই গুরুত্ব দেন না। কেউ মনে করেন এটি দই নষ্ট হওয়ার লক্ষণ, আবার কেউ স্বাদহীন ভেবে সরাসরি ফেলে দেন। অথচ এই সাধারণ দেখানো তরলটিই হতে পারে শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস।

দইয়ের (Curd) জলেই লুকিয়ে পুষ্টিগুণ

দই থেকে যে হালকা হলদেটে বা সাদাটে রঙের তরল আলাদা হয়ে যায়, পুষ্টিবিজ্ঞানের পরিভাষায় সেটিকে বলা হয় ‘হোয়ে ওয়াটার’। দই যত বেশি সময় রাখা হয়, বিশেষত ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে, তত বেশি এই তরল বেরিয়ে আসে। অনেকের কাছে এটি অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও বাস্তবে এতে থাকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। পাকস্থলী ও অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে এই তরলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এতে উপস্থিত উপকারী জীবাণু বা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে খাবার হজম সহজ হয় এবং পেটের অস্বস্তি, গ্যাস কিংবা বদহজমের মতো সমস্যার প্রকোপ কমতে পারে।

বর্তমানে শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ আলাদা করে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু দইয়ের এই তরলেও স্বাভাবিকভাবে কিছু পরিমাণ প্রোটিন থাকে, যা শরীরের পেশি গঠনে সহায়ক। পাশাপাশি এটি শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতেও সাহায্য করতে পারে।

অনেকেই এর স্বাদ পছন্দ করেন না। তাই সরাসরি পান করার পরিবর্তে প্রতিদিনের বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে এটি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সকালের ওটমিল বা ওটস তৈরির সময় সাধারণ জলের বদলে এই তরল ব্যবহার করা যেতে পারে।এছাড়াও স্মুদি, ঘোল বা লস্যি তৈরির সময় এটি মিশিয়ে দিলে পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি পায়। স্যালাডের ড্রেসিং তৈরি করা থেকে শুরু করে ডাল কিংবা স্যুপ রান্নাতেও এই তরল ব্যবহার করা সম্ভব। এতে খাবারের স্বাদে বড় কোনও পরিবর্তন আসে না, অথচ উপকারিতা বাড়ে।

The water at the bottom of curd can be a superfood, know why ?

আরও পড়ুন : AC বাসে চেপে পুরী থেকে কলকাতা! রথের আগেই চালু সরকারি বাস পরিষেবা

আমরা অনেক সময় দামি স্বাস্থ্যপণ্য খুঁজতে গিয়ে ঘরের মধ্যেই থাকা সহজলভ্য উপাদানগুলির গুরুত্ব ভুলে যাই। দইয়ের নিচে জমে থাকা এই তরল তারই একটি উদাহরণ। তাই এবার থেকে দইয়ের পাত্রে জল দেখলেই তা ফেলে না দিয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। সামান্য এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য উপকারী হয়ে উঠতে পারে।