বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজ এমন এক সাফল্যের গল্প (Success Story) বলব যেখানে হেরে গিয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা সকলকে অবাক করবে। লন্ডনে (London) একটি প্রতিষ্ঠিত চাকরি, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং স্থিতিশীল জীবন, সবকিছুই যেন ঠিক পথে এগোচ্ছিল করিশ্মা শর্মার। কিন্তু একদিন আচমকাই সেই চাকরি হারাতে হয় তাঁকে। বিদেশে বসে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়ে অনেকেই ভেঙে পড়েন, কিন্তু করিশ্মা সেই কঠিন সময়কে নতুন করে শুরু করার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। আর সেই পথচলায় তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠেন ছোট বোন হানি শর্মা। দুই বোন মিলে সিদ্ধান্ত নেন, অন্যের হয়ে কাজ না করে এবার নিজেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘মিশি কনসালটেন্সি’ (Mishi Consultancy)। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংস্থা ভারতীয় উদ্যোক্তাদের ব্রিটেন, দুবাই-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা গড়ে তুলতে সাহায্যকারী একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সংস্থাটির বার্ষিক আয় ১৫ মিলিয়ন রুপিরও বেশি, যা দুই বোনের অধ্যবসায় এবং পরিকল্পনার সাফল্যেরই প্রমাণ।
করিশ্মা ও হানি শর্মার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
করিশ্মার বেড়ে ওঠা আহমেদাবাদে। পরে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যান এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ভিসা ও কনসালটেন্সি সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। কিন্তু চাকরি হারানোর পর নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। অন্যদিকে, আহমেদাবাদে থাকা তাঁর ছোট বোন হানি তখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিবাসন বা আন্তর্জাতিক ব্যবসা নিয়ে তাঁর কোনও পেশাগত অভিজ্ঞতা না থাকলেও গবেষণা করা, কঠিন বিষয়কে সহজ ভাষায় মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। দুই বোন বুঝতে পারেন, তাঁদের এই ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতাই ভবিষ্যতের ব্যবসার মূল ভিত্তি হতে পারে (Success Story)।
আরও পড়ুন:‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন’,বারুইপুরে কাকলি, সঙ্গে সায়নী; পরে হাজির ঋতব্রতও
২০২৪ সালের জুন মাসে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। করিশ্মা তৈরি করেন সংস্থার ওয়েবসাইট এবং ব্যবসার কাঠামো, আর হানি সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্তরাজ্যে ব্যবসা শুরু, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন এবং বিদেশে উদ্যোক্তা হওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে সহজ ভাষায় শিক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন। সেই সময়ে ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত প্রতারণা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি না দিয়ে তাঁরা শুধুমাত্র নির্ভুল ও স্বচ্ছ তথ্য পরিবেশন করার নীতি গ্রহণ করেন। ফলও মিলতে শুরু করে দ্রুত। কোনও ধরনের পেইড বিজ্ঞাপন ছাড়াই তাঁদের ভিডিও লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে একটি বিশ্বস্ত অনলাইন কমিউনিটি। এরপরই মানুষ তাঁদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শ নিতে শুরু করেন। বাবা-মা মধু ও ঋষির নাম মিলিয়ে সংস্থার নাম রাখা হয় ‘মিশি কনসালটেন্সি’।
শুরু থেকেই দুই বোন একটি বিষয় পরিষ্কার করেছিলেন—তাঁরা সব ধরনের ভিসা পরিষেবা দেবেন না, বরং শুধুমাত্র বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মতো নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাবেন। প্রথমে তাঁরা ব্যবসা নিবন্ধন, কর ব্যবস্থা, লাইসেন্স, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং বিপণন কৌশল নিয়ে ব্যক্তিগত পরামর্শ দিতেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের চাহিদা বদলাতে শুরু করে। অনেকেই শুধু পরামর্শ নয়, পুরো ব্যবসা স্থাপনের দায়িত্বই তাঁদের হাতে তুলে দিতে চান। সেই প্রয়োজন বুঝেই তাঁরা পরিষেবার পরিধি বাড়ান। বর্তমানে মিশি কনসালটেন্সি শুধু পরামর্শই দেয় না, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে আইনি সহায়তা, ব্যবসায়িক নথিপত্র এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই পরিচালনা করে।

করিশ্মা ও হানির এই সাফল্যের গল্প (Success Story) প্রমাণ করে, বড় পুঁজি বা বিশাল বিজ্ঞাপন ছাড়াও সঠিক পরিকল্পনা, সততা এবং মানসম্মত কাজের মাধ্যমে একটি সফল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। বিদেশে চাকরি হারানোর ধাক্কা থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ হাজার হাজার ভারতীয় উদ্যোক্তার কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তাঁদের সংস্থা শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সঠিক তথ্য, স্বচ্ছ পরিষেবা এবং গ্রাহকের প্রতি আস্থা সবচেয়ে বড় সম্পদ। দুই বোনের এই উদ্যোগ আজ নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে এবং দেখিয়ে দিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতিই অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের সূচনা করে।













