বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ বিরাজ করছে। শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলা উত্তেজনা প্রভাব ফেলেছে সামুদ্রিক পথেও। তবে, এই আবহেও ভারত (India) তার চমৎকার কূটনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এবার ৪৫,০০০ টন এলপিজি বোঝাই বিশাল সুপারট্যাঙ্কার ‘সর্ব শক্তি’ হরমুজ প্রণালীর অবরোধ অতিক্রম করার চেষ্টা করছে।
ভারতের (India) মাস্টারস্ট্রোক!
শেষ হবে এলপিজি সঙ্কট: জানিয়ে রাখি যে, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি গ্রাহক। সাম্প্রতিক সময়ে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সাপ্লাই চেনে বিঘ্ন ঘটায় দেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। এমনকি, সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই সময়ে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) বিশাল গ্যাস কার্গো কিনেছে। এমতাবস্থায়, ‘সর্ব শক্তি’ যদি নিরাপদে ভারতীয় উপকূলে পৌঁছয়, তবে এটি বাজারের গ্যাস সঙ্কট নিরসনে এক অব্যর্থ সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

হরমুজ প্রণালীর অবরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে: উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে আমেরিকা। গত মাসে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, প্রণালীটি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলির ওপর ইরান গুলিও চালায়। যার ফলে বেশ কয়েকটি জাহাজ ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তবে, এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও নয়াদিল্লির কূটনীতি ফলপ্রসূ হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুবাদে ভারত যুদ্ধ চলাকালীন এই পর্যন্ত ৮ টি এলপিজি জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাপী মন্দার আবহেও ভারতে iPhone-এর সুনামি! Apple-এর পরিসংখ্যানে মুগ্ধ খোদ টিম কুক
হুমকির মুখে ‘সর্ব শক্তি’ কীভাবে পরিস্থিতি পাল্টে দিচ্ছে: মূলত, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এই সুপারট্যাঙ্কারটি ফেব্রুয়ারির শুরুতে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে এবং দুবাই উপকূল থেকে এর পণ্য বোঝাই করে। নিরাপত্তার কারণে, জাহাজটি যথাযথভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এর নাবিকরা ভারতীয় এবং এটি ভারতের দিকেই যাচ্ছে। যুদ্ধের সূচনা থেকেই জাহাজগুলি কর্তৃক গৃহীত এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বর্তমানে ‘সর্ব শক্তি’ ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপ হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছে। ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টার এই যাত্রা বিপদসঙ্কুল। এই এলাকায় ইলেকট্রনিক সিগন্যাল জ্যামিং বা রাডার স্পুফিং একটি সাধারণ হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে, ভারতগামী আরেকটি ট্যাঙ্কার, ‘দেশ গরিমা’, তার ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে নীরবে এলাকাটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বৈভবকে আউট করে ‘উদ্দাম সেলিব্রেশন’-এর জের! BCCI-র কড়া শাস্তির সম্মুখীন কাইল জেমিসন
এদিকে, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরীর মতে, এই সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত তার অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৪,০০০ টন করেছে। দৈনিক ব্যবহারও ৯০,০০০ টন থেকে কমে ৮০,০০০ টনে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি, রান্নার গ্যাস যাতে কোনও বাধা ছাড়াই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে সেই লক্ষ্যে সরকার ভারতের সমস্ত বন্দরকে এলপিজি ট্যাঙ্কারের নোঙর ও খালি করাকে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।













