বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মহিলাদের ঋতুকালীন ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে নানা আলোচনা চলছে। এই ছুটি কি সমস্ত কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করা উচিত? সেই প্রশ্ন নিয়েই দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সারা দেশে আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক মেন্সট্রুয়াল লিভ চালু করার আবেদন তারা গ্রহণ করছে না। আদালতের মতে, এই ধরনের আইন উল্টে মহিলাদের কর্মজীবনের ক্ষতির কারণও হয়ে উঠতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিয়োগ নিয়ে আশঙ্কা
এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ একটি বাস্তব সমস্যার দিক তুলে ধরেন। আদালতের (Supreme Court) মতে, যদি আইনের মাধ্যমে বিশেষভাবে ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে অনেক নিয়োগকর্তা মহিলাদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাতে পারেন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
শীর্ষ আদালত (Supreme Court) আরও জানিয়েছে, ঋতুস্রাব মহিলাদের জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বাধ্যতামূলক ছুটির নিয়ম তৈরি হলে সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এতে মহিলাদের দুর্বল হিসেবে দেখা হতে পারে এবং তাদের কর্মজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি সরকারি চাকরি বা বিচারবিভাগের মতো ক্ষেত্রেও মহিলাদের নিয়োগের সময় বৈষম্য দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি।
এই মামলায় আবেদনকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর পক্ষ থেকে আইনজীবী এম আর শমশাদ আদালতে জানান, কেরালার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ইতিমধ্যেই নিজেদের উদ্যোগে মহিলাদের ঋতুকালীন ছুটি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, কোনও সংস্থা যদি স্বেচ্ছায় এমন সুবিধা দেয়, তা অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এটিকে আইন করে বাধ্যতামূলক করে দিলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলেই আদালতের মত।
জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল আদালত (Supreme Court)
শেষ পর্যন্ত আদালত (Supreme Court) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক ঋতুকালীন ছুটি চালু করার আবেদন তারা গ্রহণ করছে না। আদালতের মতে, এমন নিয়ম চালু হলে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই এই ধরনের সিদ্ধান্ত আইন করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেই মত শীর্ষ আদালতের।

আরও পড়ুনঃ মোদীর ব্রিগেড সমাবেশে বড় আয়োজন, ১ লক্ষ কর্মীর জন্য স্পেশাল খাবার! কী কী থাকছে আজকের মেনুতে? জানুন
তবে বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলেও জানিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) মতে, এটি একটি বড় নীতিগত বিষয়। ভবিষ্যতে সরকার চাইলে নিয়োগকর্তা, নারী অধিকার সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে উপযুক্ত নীতি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং তার সম্ভাব্য প্রভাবও গভীরভাবে বিবেচনা করা জরুরি বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।













