বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিচারব্যবস্থাকে (Indian Judiciary) কোনওভাবেই ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করা যাবে না। আদালতের মর্যাদা এবং স্বাধীনতা নিয়ে এমনই কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল শীর্ষ আদালত। হাজার হাজার সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা সফল হবে না। আদালতের অবস্থান স্পষ্ট, বাইরে কে কী বলছেন বা কীভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাতে বিচারবিভাগের সিদ্ধান্ত বদলাবে না।
রাহুল গান্ধীর আচরণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ সুপ্রিম সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India)
গত সোমবার ইন্ডি জোটের একাধিক নেতার উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্র করে একটি বড় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী শিবিরের নেতারা ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবির মতো একাধিক বিষয় সামনে রেখে তাঁরা সরব হন। এই কর্মসূচি ঘিরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়। বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া আদালতে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে বিচারব্যবস্থাকে নিশানা করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার উপর চাপ তৈরির চেষ্টা এবং এমন ঘটনা হওয়া উচিত ছিল না (Supreme Court of India)।
আরও পড়ুন: জন্ম হায়দারাবাদে! মাত্র ৭৬০ টাকা নিয়ে যান বিদেশে, আজ তিনিই কিনছেন IDBI ব্যাঙ্ক
ভাটিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আদালতের উপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে কোনও লাভ হবে না। বিচারপতিরা আরও জানান, আদালতের বাইরে নানা মন্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁরা অবগত। বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখিয়ে বা জনসমর্থনের প্রদর্শন করে কোনও সিদ্ধান্ত আদায় করা যাবে না বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্যকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হওয়া মিছিলের প্রেক্ষিতে আদালতের কড়া অবস্থান হিসাবেই দেখা হচ্ছে। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য শোনার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে কেন এমন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, তা জানতে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডি জোটের একাধিক নেতাকে নোটিস পাঠানোর কথাও উঠে এসেছে। আদালতের তরফে তাঁদের আচরণের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী নেতাদের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছেও জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত। অর্থাৎ, একদিকে বিরোধীদের তোলা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অভিযোগের আইনি পর্যালোচনা চলছে, অন্যদিকে আদালতকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচির ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখার প্রয়োজনীয়তাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সঙ্কট! উৎসবের মরসুমে ফের বাড়বে দাম? নতুন রিপোর্টে বাড়ছে চিন্তা
আদালতের (Supreme Court of India) পর্যবেক্ষণে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রকে নোটিস পাঠানো মানেই কোনও রাজনৈতিক নেতার আচরণকে ছাড় দেওয়া নয়। মামলার একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব চাওয়া হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে আদালতের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পরবর্তী শুনানিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আচরণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। তবে এই পর্যায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা—তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আগামী শুনানিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।














