বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল তৃণমূল কংগ্রেস। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে তৃণমূলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিল শীর্ষ আদালত। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে স্পষ্ট নির্দেশিকা সামনে এল।
কেন মামলা? কারা করলেন?
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তৃণমূলের তরফে প্রথমে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ নেতৃত্ব। পরে সেই দাবি-দাওয়াই তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ ব্রায়েন। সোমবার মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী-র বেঞ্চে হয় এই শুনানি।
কী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ : যাঁরা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-তে রয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিস এবং শহরের ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ করতে হবে।
শুনানিতে প্রতিনিধিত্বের অনুমতি : যাঁরা শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন, তাঁরা নিজের হয়ে সওয়াল করার জন্য কোনও ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারবেন। এমনকী বিএলএ (BLA)-দেরও সেই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্বাক্ষর বা টিপ সই করা চিঠির মাধ্যমে অনুমোদন দিতে হবে।
শুনানির জায়গা নির্দিষ্ট : এবার থেকে পঞ্চায়েত অফিস বা ব্লক অফিসেই শুনানি হবে। আগে এই নির্দেশিকা স্পষ্ট ছিল না।
পরিকাঠামো দিতে হবে রাজ্যকে : রাজ্য সরকারকে নির্বাচন কমিশনকে পরিকাঠামোগত সহায়তা করতে হবে। শুনানির জন্য পঞ্চায়েত ভবন বা ব্লক অফিসে পর্যাপ্ত আধিকারিক দিতে হবে এবং কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব : কোনওভাবে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সেই দায়িত্ব রাজ্যের ডিজিপিকে নিতে হবে।
নথি জমার সময়সীমা : যাঁরা এখনও নথি বা আপত্তি জমা দেননি, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। জমা দেওয়া নথি সন্তোষজনক না হলে, কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে নাম বাদ যেতে পারে।
নাম বাদ দেওয়ার আগে শুনানি বাধ্যতামূলক : কারও নাম বাদ দেওয়ার আগে তাঁর নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অবশ্যই তাঁর বক্তব্য শুনতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ১৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর দিতে হবে না? বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য বড় স্বস্তির ইঙ্গিত
এছাড়া শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) মৌখিকভাবে জানিয়েছে, অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে এই বিষয়টি লিখিত নির্দেশে উল্লেখ নেই।












