বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তা এবার গড়াল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ফর্ম-৬ ব্যবহার করে অনেক নতুন ভোটারের নাম তোলা হয়েছে। তৃণমূল এই বিষয়টি আদালতে তুললেও, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ঠিকঠাক প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তদন্তে নামবে না।
ফর্ম-৬ নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলা ওঠে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী ফর্ম-৬ ব্যবহার করে শেষ মুহূর্তে প্রায় ৫ থেকে ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম তালিকায় যোগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে।
কিন্তু এই অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আদালত এমনভাবে তদন্ত শুরু করতে পারে না। তিনি বলেন, “আপনারা চাইলে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, তখন আমরা দেখব।” এরপর আইনজীবী জানান, তাঁর কাছে এখনই বিস্তারিত তথ্য নেই। চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও এখনও প্রকাশ হয়নি। এই অবস্থায় আদালত জানিয়ে দেয়, তারা এই নিয়ে আর এগোতে চায় না।
উল্লেখ্য, ফর্ম-৬ নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি অনেক ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এই অভিযোগ জানাতে ৩০ মার্চ সিইও দপ্তরে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী যে কেউ একাধিক আবেদন জমা দিতে পারেন।
সব আবেদন খতিয়ে দেখেই নাম তোলা হয়। তাই এই প্রক্রিয়ায় কোনও ভুল নেই বলেই তারা জানিয়েছে। যদিও অভিযোগ ওঠার পর ঠিক কত নতুন নাম যোগ হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কমিশন। এদিকে কয়েক মাস ধরে নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার পর এখন রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার।

আরও পড়ুনঃ ৪% DA ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু মিলবে কবে? EC-জটে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
এই SIR নিয়ে আগেও সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। তখন আদালত জানায়, রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আদালত (Supreme Court) নির্দেশ দেয়, যেসব তথ্য নিয়ে সমস্যা রয়েছে, সেগুলি খতিয়ে দেখবেন কলকাতা হাই কোর্টের নিযুক্ত আধিকারিকরা। রাজ্য ও কমিশনের আধিকারিকরা তাঁদের সাহায্য করবেন।












