বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে হঠাৎ করেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় নেই বলে জানা গেছে, যার মধ্যে অনেকেই এখনও নিজেদের বৈধতা প্রমাণের সুযোগই পাননি। এর মধ্যেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কি অনেকেই এবার ভোট দিতে পারবেন না? এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) পৌঁছেছে।
ফ্রিজ তালিকায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম নেই
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গত ৯ এপ্রিল তালিকাটি চূড়ান্তভাবে ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই তালিকায় প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম নেই। এর মধ্যে অন্তত ২৭ লক্ষ মানুষের নামএখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে যাঁদের মামলা এখনও চলছে, তাঁরা নিজেদের বৈধ ভোটার প্রমাণ করার আগেই কীভাবে তালিকা চূড়ান্ত করা হল? এমনকি, কেউ যদি ভোটের আগে ট্রাইব্যুনালে নিজের পক্ষে রায় পান, তবুও কি তিনি ভোট দিতে পারবেন না?
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুনানি
এই সব প্রশ্ন নিয়েই শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দুটি আলাদা আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা ফ্রিজ় না করে ট্রাইব্যুনালের কাজ চালিয়ে যেতে দেওয়া হোক এবং ভোটের আগের দিন পর্যন্ত নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হোক। এই বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণে জানান, আগামী ১৩ এপ্রিল এই ‘ফ্রিজ়িং’-এর বিষয়টি আদালত খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নিয়েও ভাবা হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই অনেকের মনে নতুন করে আশা জেগেছে।
এদিকে, মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত অ্যাপিলিয়েট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা ১৩ জন বৈধ পাসপোর্টধারী ভোটারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, যখন দুই প্রার্থীর নাম ইতিমধ্যেই যাচাই করা হয়েছে, তখন একইভাবে এই সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
আরও একটি আবেদনে জানানো হয়েছে, কোনও নাগরিক ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনালের কাজ ভোটের আগে বন্ধ রাখা যাবে না এবং ভোটার তালিকাও ফ্রিজ় করা উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ মমতার এক ফোনেই পাল্টে যায় খেলা! তারপরে অভিষেকও.., বিগ টার্ন রাজ চক্রবর্তীর জীবনে
বর্তমানে রাজ্যে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল এক জায়গা থেকে কাজ করছে। আবেদনকারীদের মতে, এগুলোকে জেলা স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার, কারণ দূরবর্তী জেলা থেকে কলকাতায় এসে আবেদন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, রাজ্যে ভোট গ্রহণ হবে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। তার আগেই সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই মামলার শুনানি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।













