বাংলা হান্ট ডেস্ক : উত্তরবঙ্গকে পর্যটনের আন্তর্জাতিক মানচিত্রে আরও বড় জায়গা করে দিতে এবার সময়সীমা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari। মঙ্গলবারের সফরে আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সকে আগামী এক বছরের মধ্যে ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেন তিনি। এদিন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে বন দফতরের পরামর্শ মেনে দুই হাতিশাবকের নামকরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুবছরের স্ত্রী শাবকের নাম হয়েছে সুলক্ষণা। অন্যদিকে, এক বছরের পুরুষ শাবকের নাম দেওয়া হয়েছে চৈতন্য।
হস্তিশাবকদের কেন এমন নাম দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?
এই নাম দুটি বেছে নেওয়ার পিছনেও রয়েছে বন দফতরের প্রচলিত রীতি। শাবকদের বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েকটি নামের প্রস্তাব তৈরি করেছিলেন বনকর্মী ও আধিকারিকরা। সেখান থেকেই চূড়ান্ত দুটি নাম নির্বাচন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পরম্পরা ও বনের আধিকারিকদের পরামর্শ নিয়েই নাম রেখেছি। আপনারা কি অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন এতে?” তাঁর বক্তব্য, হাতিশাবকের নামকরণে বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিল রাখার রীতিই অনুসরণ করা হয়েছে।
আগামী দিনে মাসে দুবার করে উত্তরবঙ্গে আসার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ নিয়মিত সফরের মাধ্যমে এখানকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি দেখার বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জলদাপাড়া সফরে বনাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ব গণ্ডার দিবসের দিন জঙ্গলে গণ্ডার দেখার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বাচ্চা-সহ গণ্ডার এবং বাইসন দেখেছেন বলেও জানান। বন দফতরের আধিকারিকদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁয়ের কাজ নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
এদিনের সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হলং বনবাংলোও। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগামী মার্চের মধ্যে হলং বনবাংলো নির্মাণের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। জলদাপাড়ার জঙ্গলে সব দেখে ফেলেছি। বাচ্চা সহ গণ্ডার, বাইসন দেখেছি। বনাঞ্চলে খুব ভালো কাজ হচ্ছে। এখানে আধিকারিকরাও খুব ভালো কাজ করছেন। ভেতরে গণপতি পুজো করেছি। দুই শাবক হাতির নাম রেখেছি। তাদের বাবা মায়ের নাম অনুযায়ী পরম্পরা বজায় রেখে নাম রাখা হয়েছে।”
এর পাশাপাশি বক্সা টাইগার রিজার্ভ নিয়েও বড় কর্মসূচির ঘোষণা করেন তিনি। আগামী ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবও থাকবেন বলে জানান তিনি। বন দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনী এনে বক্সা টাইগার রিজার্ভে ছাড়া হবে।

আরও পড়ুন : হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো স্বাদ, মা-ঠাকুমার কায়দায় বানান কুচো চিংড়ি বাটা
উল্লেখ্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে চোরাশিকার বন্ধ করার বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে বন দফতরের তরফে বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হওয়া গণ্ডারের শিং-সহ নানা ধরনের সামগ্রী মিলিয়ে প্রায় ১৪২ কেজি বাজেয়াপ্ত বন্যপ্রাণীর দেহাংশ নষ্ট করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।














