বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছিল নতুন রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। এবার সেই ঘোষণারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল। ঘুষের দাবি ও হয়রানির অভিযোগে দু’জন মোটর ভেহিক্যাল ইনস্পেক্টরকে সাসপেন্ড করল রাজ্য পরিবহণ দফতর। সেই পদক্ষেপের কথা জানিয়ে আরও একাধিক কড়া ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
সব অনিয়ম বন্ধ, জানালেন শুভেন্দু | (Suvendu Adhikari)
শুক্রবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেক পোস্টে একটি পণ্যবাহী ট্রাককে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছিল। চালককে অবৈধভাবে হয়রানির পাশাপাশি ঘুষের জন্য চাপ দেন দু’জন মোটর ভেহিক্যাল ইনস্পেক্টর। তিনি রাজি না হওয়ায় গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে রাজ্য সরকার কর্তৃক ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত একটি কর বাবদ ২২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।
আরও পড়ুনঃ আবাস যোজনায় আবেদন এবার আরও সহজ! ঘরে বসে কীভাবে অ্যাপ্লাই করবেন জানুন
বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নেয় পরিবহণ দফতর। পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (শ্রেণিবিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ ও আপিল) বিধি, ১৯৭১-এর বিধি ৭ (১) (এ)-এর আওতায় অভিযুক্ত দুই আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়। সেই সঙ্গেই পুঙ্খানুপুঙ্খ ফৌজদারি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য অভিযোগগুলি দুর্নীতি দমন ব্যুরো তথা এসিবি-তে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্যায়ভাবে আটক করা যানবাহনগুলি যাতে ছেড়ে দেওয়া হয় ও পরিবহণকারীদের হয়রানি কঠোরভাবে দমন করা হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এদিন একটি উল্টোরথের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, “সরকারি কর্মী ও পুলিশকর্মীদের উপর নজরদারির জন্য যে আইনি কাঠামো রয়েছে সেটা আরও মজবুত করা হচ্ছে। আমার কাছে ডাইরেক্ট মেসেজ এলেই সাসপেন্ড, গ্রেফতার হতে হবে। গতকাল বিকেলে আমার কাছে অভিযোগ আসে, রাতেই ওরা সাসপেন্ড হয়। ছাড়াছাড়ির কোনও জায়গা নেই, সব অনিয়ম বন্ধ।“

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বালি, পাথর থেকে শুরু করে কয়লা, সব জায়গায় সিন্ডিকেটরাজ শেষ করতে একটি বিশেষ টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হচ্ছে। নবান্নে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলরুম খোলা হচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগ সত্যি হলে সাসপেনশন, গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার ঘুষের দাবি ও হয়রানির অভিযোগে দুই সাসপেন্ড করে জানালেন, কোনও কর্মকর্তাকে যদি দুর্নীতি, হয়রানি অথবা অবৈধ সুবিধা গ্রহণে জড়িত পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম ডিসিপ্লিনারি ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।













