বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের আইনি লড়াইকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এবার সরকারি আইনজীবীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আদালতে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে কীভাবে সেই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় বাড়ানো যায়—এই সমস্ত বিষয় নিয়েই নবান্নে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ছিল স্পষ্ট, আদালতে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে রাজ্য সরকারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
সরকারি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)
নবান্নে আয়োজিত বৈঠকে কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করা সরকারি আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরাও অনলাইনের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রতিটি মামলার প্রস্তুতি আরও নিখুঁত করা এবং আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনও ফাঁক না রাখার বিষয়েই সর্বাধিক গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি জানান, সরকারের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিতে আইনজীবীদের আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আদালতে সওয়াল করাই নয়, মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে কলকাতার সরকারি আইনজীবীদের বর্তমান প্যানেলের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে সেই প্যানেল পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করারও ইঙ্গিত দেন।
এদিনের বৈঠকে অতীতের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের সময় অনেক মামলায় আপনারা হেরে এসেছেন। কিন্তু আমরা এমন কোনও পরিস্থিতি হতে দেব না যার জন্য এরকম অবস্থা হয়।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, বর্তমান সরকার আদালতের প্রতিটি মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ে আরও ইতিবাচক ফল চায়।
সরকারি আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, কাজের পরিবেশ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে আইনজীবীদের কাজ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে কলকাতার প্যানেলকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁর মত। সেই কারণে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিভিন্ন মামলায় দেখা যায়, তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর সময়মতো নথিপত্র বা প্রয়োজনীয় তথ্য আইনজীবীদের হাতে তুলে দিতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালতে সরকারের পক্ষে যথাযথভাবে যুক্তি উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণার টাকা না এলে অপেক্ষা নয়, এই নম্বরে ফোন করেই জানান অভিযোগ
উল্লেখ্য, সমন্বয়ের অভাব যাতে আর না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি জানাতেও নির্দেশ দেন। সরকারি আইনজীবীদের আশ্বস্ত করে বৈঠকের শেষদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও পুলিশ আধিকারিক বা কোনও সরকারি আধিকারিক যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে সেটা ডিজিপি বা ডিজি লিগালকে জানাবেন ৷ না হলে তো আমি আছিই।” নবান্নের এই বৈঠকের পর প্রশাসনিক মহলের ধারণা, আদালতে সরকারের সাফল্যের হার বাড়াতে এবার আইনি ব্যবস্থাপনায় একাধিক পরিবর্তন আনা হতে পারে।













