বাংলা হান্ট ডেস্ক: ছ’বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের বুকে আছড়ে পড়েছিল সুপার সাইক্লোন আমফান। যার জেরে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল রাজ্যের মোট ১৬টি জেলায়। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রের থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এবার রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সেই আর্থিক অনুদান নিয়েও বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠল ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ওরফে ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report) থেকে।
আমফানের আর্থিক অনুদানেও বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ মমতার সরকারের বিরুদ্ধে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন সরকারের বিরূদ্ধে অভিযোগ আমফানের ক্ষয়ক্ষতির বাড়তি হিসাব দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকার অর্থিক অনুদান চাওয়া হয়েছিল। শনিবার এমনটাই দাবি করা হয়েছে, বিধানসভায় পেশ করা ২৮টি সিএজি রিপোর্টের একটি পর্যবেক্ষণে। কি বলা হল? চলুন দেখে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
ক্যাগের রিপোর্টে দাবী করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সাহায্য চেয়ে আমফানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য রাজ্য সরকার জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে মোট ৩৫,০১৮ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান চাওয়া হয়েছিল। যা প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় বেশীই শুধু নয়, ‘অতিরঞ্জিত এবং অবাস্তব’ ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘দিদির ভয়ে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান’, NEET প্রশ্ন-ফাঁসের প্রতিবাদ মিছিলে দাবি কুনাল ঘোষের
তবে CAG রিপোর্ট অনুযায়ী, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেস্পন্স ফান্ড বা NDRF-এর তরফ থেকে মোট ২,৭০৭.৭ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তবে এর সাথে আগের অর্থবর্ষের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল অ্যাকাউন্টে উপলব্ধ বাকি থাকা ৫০% টাকা সমন্বয়ের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রায় ১৮০০০ কোটি টাকার সাহায্য চেয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য আমফানে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপশি গৃহনির্মাণের অনুদান বণ্টন নিয়েও অভিযোগে উঠছে প্রাক্তন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে । CAG-র দাবী ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির প্রতিটি পরিবার ২০,০০০ টাকা করে পেয়েছে। অথচ যে সমস্ত বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেগুলি ২৫,০০০ টাকা পেয়েছি। এখানেই শেষ নয়, রিপোর্ট অনুযায়ী ৯২২৬ জনকে একাধিকবার টাকা পাঠিয়ে সর্বমোট ১৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপ্ন দাসগুপ্ত জানান, কোনো কোনো এক অজানা কারণে এই রিপোর্ট বিগত কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে আস্তে পারেনি। তবে আমরা চেয়েছিলাম একটি বিশেষ অ্যাসেম্বলী সেশনে এই রিপোর্ট তুলে ধরতে। কারণ বিগত সরকারের করে যাওয়া ভুল সকলের সামনে আসাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।













