বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার (India-America) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে চলেছে দুই দেশ। সোমবার থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে চার দিনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য বৈঠক। এই বৈঠকে মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে স্থির হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার আবহে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি এখন কৌশলগত গুরুত্বও পেয়েছে।
ভারত-আমেরিকা (India-America) বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে বৈঠক!
দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনার প্রধান প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ। ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈন। বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলি চূড়ান্ত করাই এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি তৈরির উদ্দেশ্যে শুল্ক কাঠামো, বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ হ্রাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলিও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
আরও পড়ুন: রেজিস্ট্রি করালেও লাভ নেই! অবৈধ নির্মাণ ভাঙতেই হবে, স্পষ্ট বার্তা হাই কোর্টের
সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সম্প্রতি দাবি করেছেন, ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনার প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র এক শতাংশ বিষয় এখনও চূড়ান্ত হওয়া বাকি। ফলে সোমবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনের বৈঠককে কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই বৈঠক সফল হলে খুব শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সমঝোতা আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেই অন্তর্বর্তী চুক্তির বেশিরভাগ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছিল বলে জানা যায়। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার জন্য তখনই একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। দিল্লির বৈঠকে সেই আলোচনার ধারাবাহিকতাই বজায় থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব যত গভীর হবে, ততই বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় তাদের প্রভাব বাড়বে।
ভারত ও আমেরিকার (India-America) মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছিল চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। সেই সময় আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় পণ্যের উপর কার্যকর শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, উৎপাদন, কৃষি এবং পরিষেবা খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: এক ধাক্কায় কমল সোনার দাম, কলকাতায় ২২ ও ২৪ ক্যারেট গোল্ড প্রাইস কত?
তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি বড় আইনি ও রাজনৈতিক মোড়ও এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শুল্কনীতি সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছে। আদালত ওই নীতির একাধিক দিককে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে। ফলে মার্কিন বাণিজ্য নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত ও আমেরিকা (India-America) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে দিল্লির এই চার দিনের বৈঠক শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।













