মাতৃভাষা শেখাতে ব্যর্থ? শাস্তির মুখে পড়তে পারেন শিক্ষকরা, ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণের

Published on:

Published on:

Teachers may face punishment, says Education Minister
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে এবার বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের মাতৃভাষায় পড়া ও লেখার দক্ষতা যাচাই করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অডিট চালানোর ঘোষণা করলেন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ (Education Minister)। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই শিক্ষকদের কাজের মান বিচার করা হবে। কোনও স্কুলের পড়ুয়ারা নির্ধারিত মানে পৌঁছতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে, ভালো ফল করলে পুরস্কৃতও করা হবে তাঁদের।

শিক্ষকদের জন্য বড় ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর (Education Minister)

অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ-এর উদ্যোগে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মান যাচাই করতে বিশেষ অডিট চালানো হবে। এই অডিটের মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকবে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ারা। তারা মাতৃভাষায় সঠিকভাবে পড়তে ও লিখতে পারছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে শিক্ষা দপ্তর।

এই প্রসঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী বলেন, “আমরা রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলে অডিট করব। এই অডিটে ক্লাস থ্রির বাচ্চারা মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। বাচ্চারা যদি মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে না পারে সেক্ষেত্রে শিক্ষকরা শাস্তির কোপে পড়বেন। আবার যদি বাচ্চারা ভালোভাবে মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারে তাহলে শিক্ষকরা পুরস্কার পাবেন।”

ছাত্রছাত্রীদের শেখার মানই ভবিষ্যতে শিক্ষকদের কাজের মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান সূচক হতে চলেছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে রাষ্ট্রবাদী শিক্ষক সংগঠন এবিআরএসএম। সংগঠনের জেলা যুগ্ম সম্পাদক সুমন্ত সিংহ বলেন, “আমাদের ভাবধারাই হচ্ছে রাষ্ট্রহিতে শিক্ষা, শিক্ষা হিতে শিক্ষক, শিক্ষক হিতে সমাজ। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের স্কুল আমাদের গর্ব। আমাদের শিক্ষকতার অধিনে থাকা ক্লাস থ্রির পড়ুয়ারা অবশ্যই মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে। এই রকম মুল্যায়ন অবশ্যই হওয়া উচিত।”

Teachers may face punishment, says Education Minister

আরও পড়ুন :আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেই হবে না! কোন হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা পাবেন, জেনে নিন সহজ উপায়ে

বর্তমানে রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে গড়ে প্রতি ২২ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। সেই অনুপাত পরিবর্তন করে ৩০:১ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক বণ্টনে ভারসাম্য আনা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার মতো একাধিক ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিশার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের উপর।