বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারি চাকরির (Government Job) জন্য লক্ষ লক্ষ প্রার্থীর অপেক্ষা করেন, অন্যদিকে একটি পদে কয়েক দশক ধরে কর্মরত থাকার প্রচলিত ব্যবস্থা রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনার পথ খুঁজতে এবার কর্মজীবনের মেয়াদ নিয়েই নতুন প্রস্তাব সামনে আনলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। তাঁর ভাবনা, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় কাজ করেই অবসরে যেতে পারেন কর্মীরা। তার পরে তাঁদের পেনশন দেওয়া হবে এবং খালি হওয়া পদে নিয়োগ করা হবে নতুন প্রার্থীকে।
কমবে সরকারি চাকরির (Government Job) মেয়াদ ?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কুমারস্বামীর মতে, বর্তমানে একজন কর্মী সরকারি চাকরিতে যোগ দিলে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে একটি পদ একই ব্যক্তির দখলে থাকে। তাঁর প্রস্তাব, নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মজীবনের সময়সীমা ১০ থেকে ১৫ বছর নির্ধারণ করা যেতে পারে। তাতে নির্দিষ্ট সময় পর পদটি খালি হবে এবং অন্য কোনও চাকরিপ্রার্থী সেখানে কাজের সুযোগ পাবেন।
এই পদ্ধতিতে সরকারি চাকরির সুযোগ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, একজন কর্মীর পরিবার যেমন চাকরি চলাকালীন আর্থিক সুবিধা পাবে, তেমনই পরবর্তী সময়ে সেই পদে নিযুক্ত ব্যক্তির পরিবারও উপার্জনের সুযোগ পাবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কতগুলি অতিরিক্ত নিয়োগ হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও কোনও পরিসংখ্যান সামনে আসেনি।
কুমারস্বামীর পরিকল্পনায় অবসরের পর আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও রয়েছে। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ বছর সরকারি চাকরি করার পর অবসর নেওয়া কর্মীদের মাসে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পেনশন দেওয়া যেতে পারে। এরপর তাঁদের ছেড়ে যাওয়া পদে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে।মন্ত্রী মনে করছেন, সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জনের পর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সামনে অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকবে। তাঁরা চাইলে বেসরকারি সংস্থা বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে কাজ করতে পারবেন। ফলে একদিকে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পদ খালি হবে, অন্যদিকে আগের কর্মীরাও পেনশন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয় চালিয়ে যেতে পারবেন—এমনটাই তাঁর ভাবনা।

আরও পড়ুন : ২০৯ থেকে ২৭৫, কীভাবে বাড়বে বিজেপির সমর্থন? বিরোধীদের নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু
তবে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে যাঁরা কর্মরত, তাঁদের চাকরির মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ার কথা বলেননি কুমারস্বামী। তাঁর প্রস্তাব মূলত ভবিষ্যতে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের জন্য। কুমারস্বামী আপাতত কর্নাটকে এই ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। আগামী বছর রাজ্যটিতে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর এই ভাবনা নির্বাচনী আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারে। বেকারত্ব কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কুমারস্বামীর এই প্রস্তাব নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।














