রেজিনগরে ভোটার কম, BJP-র ভোট বেশি? অভিষেকের ‘মিথ্যে কথা’ তথ্য দিয়ে খারিজ করল কমিশন

Published on:

Published on:

abhishek banerjee(15)
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বঙ্গে নিজেদের ঘাঁটি আরও শক্তপোক্ত করে নিল বিজেপি (BJP)। স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি আরও বাড়ল বিরোধীদের। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের গড় নন্দীগ্রামের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে উপ নির্বাচনে বিরাট জয় বিজেপির। এদিকে শাসকদলের এই একচেটিয়া ফলাফল নিয়েও শুরু বিরোধীদের ‘মিথ্যাচার’। রেজিনগরের একটি বুথে ভোটার সংখ্যার চেয়ে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট বেশি বলে অভিযোগে তুলে সরব হয়েছেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। যদিও নির্বাচন কমিশনও পাল্টা প্রমাণ সামনে এসে সাংসদের ভুল শুধরে দিয়েছে ভালোভাবেই।

এদিন এক্স হ্যান্ডলে এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের তথ্য সামনে রেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন,

“বুথ নং ১০৯, রেজিনাগর এসি।

নিবন্ধিত ভোটার: ৭৭২

বিজেপির প্রাপ্ত ভোট: ৯০৯

এই নির্বাচনী হিসাব ব্যাখ্যা করতে উত্তর কোরিয়াও হিমশিম খাবে!

জনাব জ্ঞানেশ কুমার, কীভাবে একটি বুথ তার সমগ্র নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়েও একটি দলকে বেশি ভোট দিতে পারে?”

অভিষেকের অভিযোগ, রেজিনগরের ১০৯ নং বুথে ভোটার সংখ্যা ৭৭২, অথচ সেখানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৯০৯ টি ভোট নিজের ঝুলিতে করেছেন কীভাবে? ভোটার সংখ্যার চেয়ে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বেশি হওয়ার অভিযোগে চর্চা শুরু হয়। যদিও এই পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন পালটা তথ্য দিয়ে অভিষেকের অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রমাণ করেছে।

নির্বাচন কমিশন তথ্য সামনে এসে পরিষ্কার জানিয়ে দিল, অভিষেকের পোস্ট করা ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। রেজিনগরের ১০৯ নং বুথে ভোটার সংখ্যা ৯৭২ বলে জানিয়েছে কমিশন। আর বিজেপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৯০৯টি। ফলত ভোটার সংখ্যা ও প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে গরমিল যে অভিযোগ সামনে এনে অভিযোগ বিতর্ক বাড়াচ্ছিল তা খারিজ করে দিল কমিশন।

কমিশনের তরফে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দাবি, সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর যথাযথ যাচাই না করেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। ফলত এদিন উপনির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর ফের একবার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য মুখ পুড়ল মমতা তৃণমূলের। জোড়া অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। কোনও তথ্যের সত্যতা না যাচাই করে এভাবে সাধারণ মানুষকে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কীভাবে তিনি বিভ্রান্ত করলেন সেই প্রশ্নও উঠছে।

আরও পড়ুন: ‘অযোগ্য’রা প্রকল্পের টাকা পেলেও ফেরত দিতে হবে! আবাস যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আবার, সেই একই অভিযোগ তুলে অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক (Aritra Dutta Banik) সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “তৃণমূলের মাস্টারক্লাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজেপির ক্রিমিনাল ভাইয়েরা দারুণ পারফর্ম করেছে, জ্ঞানেশ কুমারের মতো সিনিয়র লোকের পদত্যাগ দরকার নেই আমাদের ক্রিমিনাল ভাইয়েরা আছেন, এরাই মোটামুটি ভোেটটা করিয়ে দেবে। সকল গুন্ডা ও ছাপ্পাবাজ ভাইদের আমার শুভেচ্ছা।” তবে এই দুজনার অভিযোগ যে সম্পূর্ণ মিথ্যা সেটাই তথ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।