বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারত সরকার দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট হাউস রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) এবং তার অংশীদার ব্রিটিশ কোম্পানি বিপির বিরুদ্ধে সর্বকালের সবচেয়ে বড় দাবি দায়ের করেছে। ইতিমধ্যেই রয়টার্সে রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে যে, একটি বিশেষ Arbitration Case-এর মাধ্যমে, সরকার এই কোম্পানিগুলির কাছ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। আসলে, সামগ্রিক বিষয়টি কৃষ্ণা গোদাবরী (KG) অববাহিকার D6 ব্লক থেকে গ্যাস উৎপাদনের তীব্র হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানিগুলি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্যাস উৎপাদন করেনি। যার ফলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
রিলায়েন্সের (Reliance Industries) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:
পুরো বিষয়টি: মূলত, কৃষ্ণা গোদাবরী অববাহিকার গভীর জলে অবস্থিত ২ টি প্রধান গ্যাসক্ষেত্র, D1 এবং D3 নিয়ে। ২০০০ সালে যখন এই প্রকল্পটি রিলায়েন্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তখন এটি ভারতের জ্বালানি আত্মনির্ভরতার দিকে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। রিলায়েন্স প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছিল যে,এই ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ১০.৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট (tcf) গ্যাসের মজুত রয়েছে। কিন্তু পরে এই অনুমান কমিয়ে ৩.১ tcf করা হয়। সরকার জানিয়েছে যে, উৎপাদন শুরুর আগে রিলায়েন্স যে দাবি করেছিল তা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে রয়েছে। সূত্র মতে, সরকার ট্রাইব্যুনালের সামনে যুক্তি দিয়েছিল যে, রিলায়েন্স তার আনুমানিক মজুতের মাত্র ২০ শতাংশ উত্তোলন করেছে। সরকারের অভিযোগ, এই ঘাটতি প্রাকৃতিক কারণে নয়, বরং কোম্পানিগুলির ‘অব্যবস্থাপনার’ কারণে ঘটেছে।

কোথায় হয়েছে ভুল: সরকার এই প্রসঙ্গে প্রযুক্তিগত কারণেও কোম্পানিগুলিকে টার্গেট করেছে। শুনানির সময়, সরকার জানিয়েছে যে রিলায়েন্স গ্যাস উত্তোলনের জন্য ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। পরিকল্পনায় ৩১ টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের কথা বলা হলেও, মাত্র ১৮ টি কূপ ব্যবহার করা হয়েছিল। সরকারের যুক্তি হল, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকা এবং কম কূপ থেকে বেশি গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা না করায় রিজার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জলের লিকেজ এবং চাপের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ, বেশিরভাগ গ্যাস মজুত চিরতরে অকেজো হয়ে পড়ে। সরকারের মতে, যেহেতু চুক্তির অধীনে আবিষ্কৃত গ্যাসের মালিকানা সরকারের, তাই কোম্পানিগুলির এই ক্ষতি পূরণ করা উচিত।
আরও পড়ুন: LPG-র দাম থেকে ব্যাঙ্কিং ও কর সংক্রান্ত নিয়ম! ১ জানুয়ারি থেকেই হতে চলেছে এই ১০ টি পরিবর্তন
২০২৬ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: জানিয়ে রাখি যে, ভারতে এই আইনি লড়াই ২০১৬ সাল থেকে চলছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ৩ সদস্যের এক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। রিপোর্ট অনুসারে, মামলার চূড়ান্ত যুক্তি গত মাসে ৭ নভেম্বর শেষ হয়েছে। তবে, সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগবে। ট্রাইব্যুনাল ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ তার রায় দেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে, রিলায়েন্স এবং বিপি এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করে বলেছে যে তাদের সরকারকে কোনও অর্থ দেওয়ার নেই। রিলায়েন্স পূর্বে বলেছে যে জলের লিক এবং ভূতাত্ত্বিক জটিলতা উৎপাদনকে প্রভাবিত করেছে। সালিশির গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে রিলায়েন্স এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চায়নি। পাশাপাশি, নীরব রয়েছে বিপিও।
আরও পড়ুন: ‘ভারতকে বাঁচাতে বাংলা জিততেই হবে’, ২৬-এর নির্বাচনকে ‘পাখির চোখ’ করে বড় প্রতিক্রিয়া বি এল সন্তোষের
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব পড়বে: উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি কেবল ২ টি কোম্পানি এবং সরকারের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয় নয়। বরং, এটি দেশের জ্বালানি চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল, তখন আশা করা হয়েছিল যে এটি জ্বালানি আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা হ্রাস করবে। উৎপাদনের এই ব্যাপক হ্রাস কেবল সরকারের রাজস্বকেই প্রভাবিত করেনি বরং জ্বালানি নিরাপত্তা লক্ষ্যমাত্রার ওপরও আঘাত হেনেছে। ২০১১ সালে, রিলায়েন্স তার ২১ টি তেল ও গ্যাস ব্লকের ৩০ শতাংশ শেয়ার বিপির কাছে ৭.২ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছিল। যার মধ্যে বিতর্কিত KG-D6 ব্লকও ছিল।

















