বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারত জুন মাসে লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে চিনের (India-China) সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করতে চলেছে। মূলত, করোনার মতো ভয়াবহ মহামারীর কারণে ২০২০ সাল থেকে এই পুরোনো পথটি বন্ধ ছিল। কিন্তু এবার তা আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে এই বাণিজ্য জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। এদিকে, আধিকারিকরা মনে করছেন যে, উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবার আরও বেশি মানুষকে এক্ষেত্রে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন অনুযায়ী ব্যবসার অনুমতিপত্র জারি করা হবে। যাতে ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা সময়মতো রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
৬ বছর পর ফের খুলছে ভারত-চিনের (India-China) এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড রুট:
এই প্রসঙ্গে পিথোরাগড়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার ভাটগনি জানিয়েছেন যে, পুনরায় এই রাস্তা খোলার আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশমন্ত্রক উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলাকে এই বিষয়ে অবহিত করার পর স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে। রিপোর্ট অনুসারে, হিমালয়ের এই রাস্তাগুলির মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য বেশ পুরোনো এবং জটিলও বটে। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯২ সালে তা পুনরায় চালু হয়। এদিকে, ২০২০ সালে, করোনার মতো ভয়াবহ মহামারীর কারণে এটি আবার স্থগিত করা হয়েছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা পুনরায় চালুর দাবি করে আসছিলেন। বিশেষ করে গত বছর, এই পথে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়ার পর প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল।

এই গিরিপথটি নিয়ে বিবাদ চলে আসছে: জানিয়ে রাখি যে, নেপাল দীর্ঘদিন ধরে লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধুরা এলাকাগুলিকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। যদিও এই এলাকাগুলি অনেক দিন ধরেই ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২০ সালে ভারত ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণ করার সময়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। নেপাল এর প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। নেপালের রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনও এই বিষয়টিকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু, এই পথে বাণিজ্যের ব্যাপারে তাদের আপত্তি এখনও বহাল রয়েছে।
আরও পড়ুন: হয়ে যান সাবধান! এই একটা ভুল করলেই পড়বেন বিপদে, গ্রাহকদের সতর্ক করে কী জানাল SBI?
উন্নত পরিকাঠামো বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে: উল্লেখ্য যে, প্রায় ১৭,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লিপুলেখ গিরিপথ ভারতকে তিব্বতের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই পথটি বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য ও যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখন, উন্নত পরিকাঠামোর মাধ্যমে এই রাস্তায় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অষ্টম বেতন কমিশনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য টাকার বৃষ্টি! মিলবে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এরিয়ার?
ইতিমধ্যেই ২০২০ সালে নির্মিত সড়ক খচ্চর ও ভেড়ার পিঠে পণ্য পরিবহনের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করেছে। যার ফলে সময় বাঁচবে এবং খরচও কমবে। এছাড়াও, গুঞ্জি বাণিজ্য কেন্দ্রে ব্যাঙ্কিং থেকে শুরু করে, কাস্টমস, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তাসহ সকল প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা ও সহজে যাতায়াত করার সুবিধার ফলে এই পথ স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত হবে বলেই আধিকারিকরা অনুমান করছেন।












