আবাসের টাকা থেকে ‘কাটমানি’ নিতে দিনমজুরের বাড়িতে তৃণমূল নেতা! সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Published on:

Published on:

TMC leader in West Midnapore accused of taking bribes in housing scheme
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আবাস যোজনার টাকা ঢুকতেই বাড়িতে হানা, পশ্চিম মেদিনীপুরে (Paschim Medinipur) তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এরকমই অভিযোগ উঠল। ডেবরা (Debra) ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সাইদুল আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস খান।

পশ্চিম মেদিনীপুরে (Paschim Medinipur) আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ:

পেশায় দিনমজুর ইলিয়াস খানের অ্যাকাউন্টে মুখ্যমন্ত্রীর আবাস যোজনার ষাট হাজার টাকা ঢুকেছে। সেই খবর পেয়ে হানা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। ইলিয়াসের অভিযোগ ‘আমার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পরে ভয় দেখিয়ে মোট আট হাজার টাকা নিয়ে গেছে শেখ সাইরুল আলী। সব উপভোক্তাকেই নাকি টাকা দিতে হয়েছে। ওই নাকি আমাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে দিয়েছে। ৮০০০ টাকা নেওয়ার পরও মাঝে মধ্যেই বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে, আরও টাকা দিতে হবে। না দিলে প্রকল্পের পরের পর্যায়ের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না বলেও ভয় দেখাচ্ছে।

এই অভিযোগকে চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন সাইরুল। তার মতে ‘আমি ব্লকের যুব সহ সভাপতি হওয়ার পর অনেকেরই গা জ্বলছে। তারাই চক্রান্ত করে এইসব করাচ্ছে। আমি শুধু সমস্ত উপভোক্তাকে বলেছি গ্রাম পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়ে বাড়ি করার জন্য’। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে’।

আরও পড়ুন:বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল ১১ লক্ষ নাম! সংখ্যা আরও বাড়ার ইঙ্গিত

তৃণমূল নেতার এই কাটমানি নেওয়ার বিষয়কে কটাক্ষ করে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, ‘এ আর নতুন কি! তৃণমূল নেতা মানেই তো কাটমানি। ছোট বড় সব নেতাদেরই কাটমানি দিতে হচ্ছে। উনি সাহস করে অভিযোগ করেছেন বলে এত শোরগোল হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখুন তৃণমূলের পার্টি ফান্ডের নাম করে ছোট বড় মাঝারি সব নেতাই কাটমানি তুলছে।

আরও পড়ুন: ভোটার তালিকায় কি কারচুপি? SIR নথিতে পরীক্ষা ছাড়াই সই করার নির্দেশ তৃণমূল নেতার, অভিযোগে তোলপাড়

TMC leader in West Midnapore accused of taking bribes in housing scheme
ইলিয়াস খান

এ প্রসঙ্গে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘উনি বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রশাসনিকভাবে তো তদন্ত করে দেখা হবেই, আমরা দলীয়ভাবেও বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অভিযোগ সত্য হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আমাদের দলের এটাই ঘোষিত নীতি। আর এ নিয়ে বিজেপি নেতাদের কথা বলা সাজে না। এক টাকাও দেওয়ার ক্ষমতা নেই, আবার বড় বড় কথা’।