সম্পন্ন হওয়ার পথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি! কতটা লাভবান হবে ভারত?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে চলা আলোচনার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal) চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার এই চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় গাড়ি, ওয়াইন ও বিলাসসামগ্রীর দাম ভারতীয় বাজারে উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পাবে এবং একটি বিশাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অঞ্চলের সৃষ্টি হবে।

সম্পন্ন হওয়ার পথে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি (Trade Deal)!

এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার দিল্লিতে পৌঁছান ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লায়েন। তিনি সোমবার ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কোস্টা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরই চুক্তি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পর্যটকদের বাঁচাতে জঙ্গিদের গুলিতে দিয়েছিলেন প্রাণ! পহেলগাঁওয়ের আদিলের উদ্দেশ্যে সাহসিকতার পুরস্কার

চুক্তির মূল উপাদান হিসেবে জানা গেছে, ১৫ হাজার ইউরোর বেশি মূল্যের গাড়ির উপর ভারত ১১০ শতাংশ বর্তমান শুল্ক কমিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। একইভাবে আমদানিকৃত ওয়াইনের উপরেও শুল্ক হ্রাসের ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি ভারতের উচ্চ-আয়ের ভোক্তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস বয়ে আনবে।

উরসুলা ভন ডার লায়েন সম্প্রতি দাভোসে বলেছিলেন যে এই চুক্তি ২ বিলিয়ন মানুষের একটি বিশাল বাজার তৈরি করবে, যা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। চুক্তির ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টিতেই চূড়ান্ত সম্মতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তি ও ওষুধ শিল্প চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হলেও সংবেদনশীল কৃষি খাতকে আপাতত এর বাইরে রাখা হয়েছে।

Trade deal between India and the EU is near completion!

আরও পড়ুন: ছিল বড়সড় হামলার ছক? ১৮৭ টি বস্তায় প্রায় ১০,০০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার এই রাজ্যে

তবে চুক্তি নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে ইউরোপের প্রস্তাবিত ‘কার্বন বর্ডার ট্যাক্স’ ভারতের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানিকে ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও সতর্কতা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবুও আমেরিকা ও চিনের উপর অতিনির্ভরতা কমাতে এই চুক্তিকে ভারতের কৌশলগত বিজয় হিসেবেই মূল্যায়ন করছে আন্তর্জাতিক মহল।