চারদিনে তিন ইস্তফা! সুখেন্দু-সুস্মিতার পর রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন প্রকাশ চিক বরাইক

Published on:

Published on:

Trinamool Congress leader Prakash Chik Baraik resigns as Rajya Sabha MP
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যসভায় তৃণমূল (Trinamool Congress) শিবিরে ফের ধাক্কা। সুখেন্দু শেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের পর এবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Chik Baraik)। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এতে রাজ্যসভায় তৃণমূল আরও শক্তি হারাল।

চারদিনে তিন ইস্তফায় জোর চাপে তৃণমূল | (Trinamool Congress)

গত সোমবার থেকে রাজ্যসভায় তৃণমূলে ভাঙনের ধারা শুরু হয়েছে। সেদিন সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। এরপর সেই পথে হেঁটে ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব। এবার একই সিদ্ধান্ত নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকা প্রকাশ চিক বরাইক। তিনজনেই সাংসদ পদ ছাড়ার পাশাপাশি তৃণমূলও ছেড়েছেন।

আরও পড়ুনঃ আরও ভাঙছে তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরে মালা রায়? নয়া জল্পনায় তোলপাড়

এদিন পদত্যাগের পর এই তৃণমূল নেতা বলেন, সদ্য সমাপ্ত ভোটে জনগণের রায়কে সম্মান জানাতেই সাংসদ পদ ছেড়ে দিচ্ছেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মতো কাজ করার কথাও বলেন তিনি। প্রকাশের কথায়, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে নির্দেশ দেবেন, আগামীদিনে সেই মতো কাজ করব”।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম তফশিলি উপজাতি মুখ ছিলেন প্রকাশ। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দিয়েছিল তৃণমূল। যদিও আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে জিততে পারেননি তিনি। সূত্র মারফৎ খবর, এবারের বিধানসভা ভোটেও প্রকাশকে টিকিট দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছিল। তবে শেষ অবধি তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি।

Prakash Chik Baraik

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকে তৃণমূলের অন্দরে টালমাটাল অবস্থা। ইতিমধ্যেই কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে গোটা দল। পরিষদীয় দলের পর লোকসভায় সংসীয় দলে ভাঙনের ছায়া নেমে এসেছে। সেই সঙ্গেই রাজ্যসভাতেও শক্তি হারাতে শুরু করেছে জোড়াফুল শিবির।

সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের পর বর্তমানে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মাত্র ১০ জন সাংসদ রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে আরও একজন ইস্তফা দিতে পারেন। এই জল্পনা সত্যি হলে তা যে তৃণমূলের জন্য বিশাল ধাক্কা হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।