বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মাল ব্লকের বাগরাকোটে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ভেতরের ঝামেলা এখন প্রকাশ্যে। দলের জেলা কমিটির সম্পাদক রাজেশ ছেত্রী নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি জানিয়েছেন যে এবারের নির্বাচনে কোনও কাজই করবেন না।
কী ঘটেছে (Trinamool Congress)?
কিছুদিন আগেই জেলা নেতৃত্ব ওয়াশাবাড়ি চা বাগানের রাজু শাহিকে একই পদে দায়িত্ব দেয়। রাজনৈতিক মহলে যিনি রাজেশের পুরনো বিরোধী হিসেবে পরিচিত। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই অসন্তোষ বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই অসন্তোষই বড় সিদ্ধান্তে গড়ায়। রাজেশ ছেত্রী আগে রাজু শাহি ও তাঁর স্ত্রী সরিতা শাহির বিরুদ্ধে লড়াই করেই এলাকায় নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। তাই এখন সেই গোষ্ঠীকেই সামনে আনা হচ্ছে দেখে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। নিজের সম্মানের জায়গা থেকে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
বাগরাকোটের মিনা মোড়ে দলীয় (Trinamool Congress) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে রাজেশ বলেন, তিনি দল ছাড়ছেন না, কিন্তু কোনও পদে নেই এবং ভোটের কাজেও থাকবেন না। তিনি আরও বলেন, এলাকায় কোনও অশান্তি চান না, তাই দায়িত্ব এখন অন্য গোষ্ঠীর উপরেই থাকুক। রাজেশের এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর অনুগামীরাও একে একে পদ ছাড়তে শুরু করেছেন। যুব শাখার অঞ্চল সভাপতি শৈলেন শর্মা, ট্রেড ইউনিয়নের জন প্রকাশ ওরাও, ওম নারায়ণ খেস এবং অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান সোলোমাইট লামা, সবাই পদত্যাগ করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে সংগঠনের ভেতরে বড় ভাঙন তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের (Trinamool Congress) ব্যবধান অনেকটাই কমাতে বড় ভূমিকা ছিল রাজেশের। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান আরও কমে যায়। তাঁর নেতৃত্বেই এই এলাকায় তৃণমূল শক্তিশালী হয়েছিল। এখন এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন মাল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বুলু চিক বরাইক। ভোটের আগে কীভাবে সব দিক সামলে পরিস্থিতি ঠিক করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট রোহিত চিক বরাইক জানিয়েছেন, সবাইকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ কবে অষ্টম বেতন কমিশন পেতে চলেছেন বাংলার কর্মীরা? জানালেন প্রধানমন্ত্রী
তবে অন্য গোষ্ঠীর তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভোটের ঠিক আগে এই ঝামেলা তৃণমূলের (Trinamool Congress) উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।













