বাংলাহান্ট ডেস্ক : সামনেই কোরবানি ইদ। তার আগে রাজ্যে পশু জবাই সংক্রান্ত সরকারের নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে সংখ্যালঘুদের মধ্যে তৈরি হয়েছে জল্পনা। পশু জবাইকে কেন্দ্র করে কয়েকটি আইন কার্যকর হয়েছে রাজ্যে, যেখানে গবাদি পশু জবাই করা নিয়ে রয়েছে একাধিক নির্দেশ। এমতাবস্থায় আসন্ন কোরবানি ইদে পশু জবাই করা যাবে কিনা তা নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে। এর মধ্যেই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। তার মধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান।
পশুজবাই নিয়ে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) তৃণমূল
তৃণমূল বিধায়কের আবেদন, রাজ্যের জারি করা এই নির্দেশিকায় কিছু ছাড় দেওয়া হোক। এই সংক্রান্ত আরও কিছু মামলা দায়ের হয়েছে আদালতে। বুধবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, একই বিষয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে, যেগুলির শুনানি হবে বৃহস্পতিবার। কী বক্তব্য বিরোধী দলের?

কী নির্দেশিকা রাজ্যের: উল্লেখ্য, বিজেপি সরকার সম্প্রতি ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী কিছু নিয়ম বলবৎ করেছে রাজ্যে। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না। ১৪ বছর বয়স হয়নি এমন গবাদি পশুকে জবাই করা যাবে না। মাংস কাটার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি (Calcutta High Court) প্রয়োজন। এমতাবস্থায় তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানের বক্তব্য, উৎসবের জন্য সরকারি নির্দেশিকায় কিছুটা ছাড় দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন : আরজিকরে আবারও তদন্ত কেন? অভয়ার পরিবারের আবেদনে কী রায় হাইকোর্টের?
কী বক্তব্য তৃণমূলের: এদিন আখরুজ্জামানের সঙ্গে আদালতে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। তিনি বলেন, কোরবানি ইদ মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয় কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ওই আইনের ১২ নম্বর ধারায় একটি ছাড় রয়েছে, তা সামনে রেখে ছাড় চাওয়া হচ্ছে। তিনি এও বলেন, গরু বাদ দিলে মোষ অথবা বলদ কোরবানির অনুমতি দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন : অভিষেকের ১৭ টি সম্পত্তিতে পুরসভার নজর, ৭ দিনের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ, ঠিক কেন ‘বেআইনি’?
মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, গরু জবাই বন্ধ হয়ে গেলে অনেক হিন্দুরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। মূল আবেদনকারী আখরুজ্জামান বলেন, বকরি ইদ মুসলমান ধর্মের একটি পবিত্র রীতি। ধর্মে বলা আছে, নিজের প্রিয় পোষ্যকে সুস্থ সবল ভাবে লালন পালন করে তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়ার পর তাকে আল্লার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে হয়। কিন্তু ১৩ মে এর সরকারি নির্দেশিকার ফলে বহু মানুষ বিপাকে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।













