Banglahunt Exclusive: তৃণমূলের দালালি করা কর্মীরাই ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের নাম ভাঙিয়ে ঘুরছেন বিজেপি নেতাদের বাড়ি! শুরু বিতর্ক

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট স্পেশাল স্টোরি: বাংলার দুর্গাপুজোকে বিগত সরকার রীতিমতো নিজেদের ‘পৈতৃক সম্পত্তি’ বলে মনে করেছিল। যার ফলে কিছু সংগঠন তৃণমূলের একাধিক ‘চোর’ এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্থ’ নেতাকে সামনে এনে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব (Forum for Durgotsab) নামে একটি কমিটি তৈরি করে। যেটি তৃণমূলের নেপথ্যে থেকে ভোট আদায়ের কাজ করেছে। তবে, এবার বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই সংগঠনের মাথারা। কেন ফোরাম ফর দুর্গোৎসব নিয়ে জলঘোলা শুরু হচ্ছে? কারণ, বেশ কিছুদিন আগেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে গিয়ে তৃণমূলের কিছু দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা যাঁরা ‘নো ভোট টু বিজেপি’ প্রচার করেছিলেন তাঁরা উপস্থিত হন এবং শমীকের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন। ওই সংক্রান্ত ছবি পোস্ট হয় বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়ায়। অথচ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছিলেন এই সংগঠনের মাথারা। কিন্তু, বাস্তবের সঙ্গে তাঁদের অনেক পার্থক্য আছে।

তৃণমূলের দালালি করা কর্মীরাই ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের (Forum for Durgotsab) নাম ভাঙিয়ে ঘুরছেন বিজেপি নেতাদের বাড়ি:

১ মাস আগেও যাঁরা তৃণমূলের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন , প্রকাশ্যে সভা করেছেন তাঁরা কেন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবে থাকবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই বাংলায় বিজেপি সরকার এসেছে। এমতাবস্থায়, বিজেপির একাধিক দুর্গাপুজো তৈরি হবে। বিগত দিনে বিজেপির একমাত্র বড় পুজো ছিল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। সেখানে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবে তাদের ডাকা হয়নি। কারণ সেই পুজোটি ছিল ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বিজেপি নেতা সজল ঘোষের পুজো। কোনও রকম কার্নিভালে উপস্থিতি বা কোনও সহযোগিতা ওই পুজো কমিটিকে করা হতো না। এমনকি, ওই পুজো কমিটি একাধিকবার পুলিশের হুমকির সম্মুখীন হলেও প্রতিবাদ করেনি ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। এখন তৃণমূলের এই নেতারা বিজেপির বিভিন্ন নেতার বাড়ির দরজায় ঘুরছেন এবং মুখ ঝামটাও খাচ্ছেন। তবুও, নির্লজ্জের মতো বিভিন্ন বিজেপি নেতার বাড়িতে রক্তদান শিবিরের নাম করে ‘রিলেশন বিল্ড আপ’ করতে চাইছেন, তাঁদেরকে ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন।

Trinamool workers associated with Forum for Durgotsab are increasing contact with BJP leaders.

সম্প্রতি বাংলা হান্টের কনক্লেভে উপস্থিত হয়েছিলেন বরানগরের বিধায়ক তথা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার্ডের পুজো কমিটির প্রধান উদ্যোক্তা সজল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছেও তাঁরা এসেছিলেন। আমি জানি তাঁরা প্রত্যেকে তৃণমূল। কিন্তু, আমি তাঁদের বলেছি, আপনারা আমার কাছে এসেছেন, কারণ ক্ষমতার সঙ্গে থাকতে চান।’

আরও পড়ুন: ফিফা বিশ্বকাপে বিষধর সাপের আতঙ্ক! আগেভাগেই সতর্ক করা হল এই দলকে

Trinamool workers associated with Forum for Durgotsab are increasing contact with BJP leaders.

এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে কেন তৃনমূল নেতারা ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের নামে নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেন? এমতাবস্থায়, একাধিক বিতর্কিত লেখার পর বিজেপি ওয়েস্ট বেঙ্গলের ফেসবুকে পোস্টটি ডিলিট করা হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটির নাম পরিবর্তন হবে এবং বাংলায় সুশীল সমাজ, রাষ্ট্রবাদী মানুষ, সনাতনী ধর্মের মানুষকে নিয়ে তৈরি হবে কমিটি। সেই কমিটিতে কেউ পার্টির হয়ে দালালি করবেন না।

আরও পড়ুন: RBI-র ‘মাস্টারস্ট্রোক’, এক বছরেই আসবে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ, কী বলছে রিপোর্ট?

Trinamool workers associated with Forum for Durgotsab are increasing contact with BJP leaders.

এদিকে, পূর্বের সরকারের সময়ে যাঁরা এখানে ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন টালা বারোয়ারির জেনারেল সেক্রেটারি অভিষেক ভট্টাচার্য (বুবাই)। তিনি তৃণমূলের বলে বলীয়ান হয়ে দাদাগিরি করতেন বলে দাবি এলাকাবাসীর। এমনকি, তিনি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী কাশীপুর-বেলগাছিয়ার জনপ্রিয় বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারিকে হারানোর জন্য প্রচার করেছেন। তবে, ৪ তারিখের ফল ঘোষণা পর থেকেই তিনি পালটি মারতে শুরু করেছেন। এমতাবস্থায়, আসন্ন দুর্গাপুজোতে তৃণমূলের এই ‘দালাল’-রা কোন ভূমিকায় থাকেন সেই দিকেই সকলের নজর রয়েছে।

Trinamool workers associated with Forum for Durgotsab are increasing contact with BJP leaders.

বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্বে…