বাংলাহান্ট ডেস্ক: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণার জাল (Fake University) ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। ডিগ্রি পাওয়ার আশায় বহু পড়ুয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও পরে দেখা যাচ্ছে, সেগুলির কোনও আইনি স্বীকৃতিই নেই। এমন পরিস্থিতিতে বড় সতর্কবার্তা দিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। কমিশন জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ৩২টি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলির ডিগ্রি দেওয়ার কোনও আইনগত অধিকার নেই। উদ্বেগজনক বিষয়, এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নামও রয়েছে।
দেশজুড়ে ৩২ টি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় (Fake University) চিহ্নিত করল UGC!
UGC স্পষ্ট করেছে, চিহ্নিত এই প্রতিষ্ঠানগুলি UGC আইনের অধীনে অনুমোদিত নয়। ফলে এই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ডিগ্রি চাকরি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত দু’বছরে ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ৩২-এ পৌঁছেছে, যা শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতারণার বাড়তে থাকা প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র’, শংকরের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদীর
ভৌগোলিকভাবে দেখা গেলে, ১২টি রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই ভুয়ো প্রতিষ্ঠানগুলি। সবচেয়ে বেশি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধান মিলেছে রাজধানী দিল্লিতে, যেখানে এক ডজনেরও বেশি এমন প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। উত্তরপ্রদেশে রয়েছে ৪টি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, কেরালা, মহারাষ্ট্র, পুদুচেরি এবং পশ্চিমবঙ্গে ২টি করে ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বের কথা জানিয়েছে কমিশন।
এছাড়াও নতুন করে তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাজস্থান, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড এবং অরুণাচল প্রদেশ। এই চার রাজ্যে ১টি করে ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ডিগ্রি, কম খরচ বা সহজ ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পড়ুয়াদের টার্গেট করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুন:কয়েক মাসেই শেষ সিরিয়াল, ‘ভোলেবাবা’র হাত ধরে বদলাচ্ছে বাংলা টেলিপাড়া?
ভর্তির মরসুম শুরু হওয়ার আগে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে UGC। কমিশনের নির্দেশ, কোনও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে অবশ্যই অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন। UGC-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পরীক্ষা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সস্তায় বা সহজে ডিগ্রি পাওয়ার লোভে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেতে পারে বলেই সতর্ক করছে কমিশন।













