বাংলা হান্ট ডেস্ক: শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা (WBBSE)। এই পরীক্ষার শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রতি বছরের মতো এই বছরও নানান রকমের অসাধু উপায় নতুন নতুন ফন্দি আবিষ্কার শেষ হচ্ছে না। জানা যায় চলতি বছর পরীক্ষার সময় রইল তেমন কিছু অভিনব ও অত্যাধুনিক ফন্দির কথা। যেখানে পরীক্ষা চলাকালীন জুতোর মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। আবার কোথাও এই পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকারাই মদত দিচ্ছেন। যা দেখে তাজ্জব হচ্ছেন সকলেই।
শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ (WBBSE)
সূত্রের খবর, শনিবার ছিল মাধ্যমিকের (WBBSE) ভূগোল পরীক্ষা। বিকেলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জানাল, এ দিনও গোটা রাজ্যে ১২ পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল এক অভিনব প্রবণতা পড়ুয়ারা দলবদ্ধ ভাবে একটি বা দু’টি মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিল পরীক্ষাকেন্দ্রে। সেগুলিকে ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে জেনে নিচ্ছিল উত্তর। এরপরেই চলছিল টোকাটুকি। যদিও শনিবার অবশ্য অনেককেই ব্যক্তিগত ভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে কলকাতা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, কোচবিহার, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ধরা পড়েছে ১২ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ শৌচাগারে মোবাইল রেখে এসেছিল।আবার কেউ আবার মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিল জুতো বা অন্তর্বাসের ভিতর।

আরও পড়ুন: এবার এসিতে যাত্রা! ধনধান্য এক্সপ্রেসে নতুন বগি—কবে থেকে পরিষেবা পাবেন জানুন?
এরপর এক পরীক্ষার্থী মোবাইল বার করতে গিয়েই ধরা পড়ে যায়। বাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উত্তর জেনেও ফেলেছিল। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। যদিও এর আগে আরও পড়ুন:পরিদর্শকের চোখে ধুলো দিতে এক পরীক্ষার্থী গত বছরের প্রশ্নপত্র নিয়ে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে পুরনো প্রশ্নপত্র বেঞ্চে রেখে নতুন প্রশ্নপত্র শৌচাগারে নিয়ে চলে গিয়েছিল সে। তার পর চলছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উত্তর জেনে নেওয়ার পালা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পরে ধরা পড়েছে ওই পরীক্ষার্থী।
এমনকি শেষরক্ষা হয়নি মালদা মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষকেরও। পর্ষদের দাবি, শুক্রবার ইতিহাস পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার খাতা ব্যবহার করেই উত্তর লিখে এনেছিলেন তিনি। সেই উত্তর পরীক্ষার্থীদের বলে দিচ্ছিলেন। কিন্তু নজরদারি ক্যামেরা ও পরিদর্শকের চোখে ধরা পড়ে যান। শুধু উত্তর বলা নয়, ধরা পড়ার পড় তিনি পালিইয়ে যায়।
অপরদিকে কলকাতার খন্না হাইস্কুলের পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মোমিন হাইস্কুলে ভাঙচুর করার। জানা যায়, ভূগোল পরীক্ষার শেষে ওই ছাত্ররা পরীক্ষাকক্ষে ভাঙচুর চালায়। এমনকি বেকিয়ে দেওয়া হয় পাখার ব্লেড। যদিও এ বিষয়ে পর্ষদের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। জানা গিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে খন্না হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ আপোসে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চেয়েছেন। অপরদিকে একই দিনে ধরা পড়েছে এক কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষার্থী। হুগলির মহেশ্বর হাইস্কুলে ওই পরীক্ষার্থীর শুধু বাংলা এবং অঙ্ক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে এতদিন সব পরীক্ষাই দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। এ জন্য ভেন্যু সুপাইভাইজ়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পর্ষদ। তবে এই বিষয়ে পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এ বছর টোকাটুকির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। দলগতভাবে নকল করছে পরীক্ষার্থীরা। এই প্রবণতা একেবারেই নতুন (WBBSE)।”












