বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আজ সোমবার বিধানসভায় পেশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট (West Bengal Budget 2026)। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই তাদের প্রথম বড় আর্থিক পরিকল্পনা। তাই সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্মী থেকে শিল্পমহল, সবার নজর এখন এই বাজেটের দিকে। রাজ্যের বিপুল ঋণের চাপ সামলে কীভাবে উন্নয়ন, শিল্প এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে, সেই দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কী কী থাকতে পারে বাজেটে (West Bengal Budget 2026)?
১৮ জুন থেকে শুরু হয়েছে বাজেট (West Bengal Budget 2026) অধিবেশন। সোমবার চলতি অর্থবর্ষের বাকি সময়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেটের আগে তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যের ঋণের বোঝা। বর্তমানে রাজ্যের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। প্রতি বছর এই ঋণ ও সুদ শোধ করতেই বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে উন্নয়নের কাজের জন্য বাড়তি অর্থের ব্যবস্থা করা সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে শুধু আর্থিক চাপ নয়, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের দিকেও বিশেষ নজর দিতে পারে সরকার। শিল্পমহলের আশা, নতুন বিনিয়োগ টানতে এবং চাকরির সুযোগ বাড়াতে একাধিক ঘোষণা করা হবে। উৎপাদন শিল্পে বিদ্যুতের খরচ কমানোর বিষয়েও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, বাজেটে নতুন শিল্পনীতির রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে। বড় শিল্প গোষ্ঠীগুলিকে বাংলায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে জমি, কর ছাড়, বিশেষ সুবিধা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হতে পারে। শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দ্রুত দিতে ‘ওয়ান উইন্ডো’ ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএসএমই বা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য আলাদা নীতি আনার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যের প্রায় ৯০ লক্ষ এমএসএমই ইউনিটের জন্য আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্টার্টআপ খাতেও বড় ঘোষণা আসতে পারে। নতুন ব্যবসা শুরু করতে যুবকদের সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব বাজেটে থাকতে পারে। সরকারের লক্ষ্য প্রায় পাঁচ লক্ষ যুবককে এই প্রকল্পের আওতায় আনা।
এছাড়া সিঙ্গুরে নতুন শিল্পতালুক তৈরির পরিকল্পনা, উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য পৃথক শিল্পনীতি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) গড়ে তোলার বিষয়ও বাজেটে উঠে আসতে পারে। সরকারি সূত্রের দাবি, আদানি ও জিন্দাল গোষ্ঠী-সহ একাধিক বড় শিল্প সংস্থা বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। গভীর সমুদ্র বন্দর এবং হুগলি নদীর তলদেশে টানেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে। অতীতে রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্প সংস্থাগুলিকেও ফের বাংলায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ ডিএ নিয়ে ঘোষণার আশায় রয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। বাজেটের (West Bengal Budget 2026) আগে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেছেন, মানুষ পরিবর্তনের আশায় নতুন সরকারকে নির্বাচিত করেছে। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। যতটা সম্ভব করা যায়, এই বাজেটেই তা করার চেষ্টা হবে। পাশাপাশি আগামী দিনে সরকারের পরিকল্পনার দিশাও এই বাজেটে তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুনঃ কেন চিঠি দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করানো হল? তৃণমূলের শোকজের জবাবে বোমা ফাটালো অরূপ
অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলীয় বিধায়কদের প্রথম বাজেট (West Bengal Budget 2026) নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সমালোচনা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত এবং তারা কী পদক্ষেপ নেয়, তা আগে দেখে নেওয়া দরকার।
















