বাংলা হান্ট ডেস্ক : সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি কর্মী, পুলিশ এবং জনসম্পত্তির উপর হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনের। এই পরিস্থিতিতে কঠোর আইনি কাঠামো তৈরি করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার(West Bengal Government)। সেই লক্ষ্যেই নতুন আইন এবং পুরনো আইনের সংশোধনী আনার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।
নতুন আইন আনবে সরকার (West Bengal Government)
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র দপ্তর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদনের জন্য পেশ করতে চলেছে। পরে সেগুলি বিধানসভায় আলোচনা ও পাশের জন্য আনা হবে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাব রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘পশ্চিমবঙ্গ মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’-এ পরিবর্তন আনার।
পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে একটি সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যার নাম ‘পাবলিক সেফটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি বিল’। বর্তমান আইনে মূলত দাঙ্গা, নাশকতা, লুটপাট, বিস্ফোরক ব্যবহার কিংবা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সরকারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বিস্তৃত ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে। তাই সংশোধনের মাধ্যমে আইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জননিরাপত্তাকে। গত কয়েক বছরে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে যেখানে সমাজবিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কোথাও থানায় হামলা হয়েছে, কোথাও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের জীবন সংশয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের উপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ফলতার সাম্প্রতিক ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন,”এই ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে রাজ্য সরকার এমন কড়া আইন আনছে, যাতে আগামী দিনে এই কাণ্ড করার আগে যে কেউ পাঁচ বার ভাববে।” সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই আইন তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গ দিবসেই রাজ্যে নতুন ট্রেনের সূচনা, কোন কোন স্টেশনকে জুড়বে এই পরিষেবা
প্রসঙ্গত, নতুন প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ক্ষয়ক্ষতির দায় অপরাধীর উপর চাপানো। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে, তাহলে সেই ক্ষতির অর্থ আদায়ের জন্য অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা বিক্রির বিধান রাখা হতে পারে। পাশাপাশি সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বিস্তৃতভাবে সংজ্ঞায়িত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলগুলি কার্যকর হলে প্রশাসনের হাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আরও শক্তিশালী হাতিয়ার আসবে।

















