বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর আগে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছিলেন কলকাতা ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার হকার। অবশেষে তাঁদের জন্য এল স্বস্তির বার্তা দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। আপাতত অক্টোবর মাস পর্যন্ত ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই স্বস্তির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত, যাতে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত না হয় এবং ফুটপাতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত থাকে।
হকারদের জন্য কী বার্তা রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘ আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে উৎসবের মরসুমে হকারদের জীবিকার উপর কোনও তাৎক্ষণিক কোপ পড়বে না। যদিও উচ্ছেদ অভিযান আপাতত স্থগিত থাকছে, তবুও ফুটপাত ব্যবহারে কোনও রকম ছাড় দিতে রাজি নয় প্রশাসন। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, হকাররা ফুটপাতের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অংশে দোকান বসাতে পারবেন। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই নির্দেশ অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু সাময়িক সমাধান নয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী নীতিমালা তৈরির দিকেও এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার। পুরনগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতর খুব শীঘ্রই হকার সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে একটি কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা হবে, যাতে হকারদের জীবিকা সুরক্ষিত থাকে। এই সিদ্ধান্তের সুবিধা কেবল রাজ্যের ফুটপাত হকারদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।
রেলের জমিতে ব্যবসা করা হকারদের বিষয়ে কোনও আশ্বাস দিতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি অসিত সাহা বলেন, “রেলের সম্পত্তি বা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়, তাই রেলের উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব নয়।”

আরও পড়ুন :কলেজে ভর্তিতে রেকর্ড বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বড় দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
প্রসঙ্গত, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং রেলের মালিকানাধীন জমি থেকে অবৈধ দখল সরাতে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযানে বহু হকারকে সরে যেতে হয়েছে, যার ফলে রেল চত্বরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তার পরিবেশ রয়েছে। বর্তমান সিদ্ধান্তে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার ফুটপাত হকাররা উৎসবের আগে কিছুটা স্বস্তি পেলেও বিষয়টির স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। আগামী দিনে সরকার ও হকার সংগঠনগুলির আলোচনায় যে নীতিমালা তৈরি হবে, সেটিই নির্ধারণ করবে শহরের ফুটপাতে ব্যবসা এবং জনস্বার্থের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।













