করে দেখাচ্ছে বিজেপি সরকার! পশ্চিমবঙ্গ হতে চলেছে দেশের নতুন টেকনোলজি হাব, তৈরি রোডম্যাপ

Published on:

Published on:

West Bengal is set to become India's new technology hub.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই বঙ্গে (West Bengal) হয়েছে পালাবদল। যেখানে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এদিকে, নতুন সরকার গঠনের এই সবে মাসখানেক সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু, এরই মধ্যে সেখানকার কর্মসংস্থানে পরিবর্তনের ঢেউ উঠতে শুরু করেছে। রাজ্যে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal) একটি বড় রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের মডিফায়েড ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাস্টার্স (ইএমসি ২.০) প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে তার বিদ্যমান পরিকাঠামো সম্প্রসারণের উপায় খুঁজছে। এই প্রকল্পের আয়তায়, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের পূর্ববর্তী প্রকল্পের অধীনে স্থাপিত নৈহাটি ও ফলতা ক্লাস্টারের সম্প্রসারণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) হতে চলেছে নতুন টেকনোলজি হাব:

জানিয়ে রাখি যে, এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন কেন্দ্রীয় সরকার দেশি ও বিদেশি ইলেকট্রনিক্স এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে পশ্চিমবঙ্গে ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প এবং আইডি এনাবেল্ড সার্ভিসেস (ITeS)-এ বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করছে। সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার নতুন বিনিয়োগের জন্য জমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। যদিও, ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করতে সময় লাগতে পারে। তাই, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সহায়তায় ফান্ড সংগ্রহ করে বিদ্যমান স্থানগুলিতে প্রধান বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। এদিকে, প্রায় ৭০ একর জুড়ে বিস্তৃত নৈহাটি ক্লাস্টার এবং ৫৮ একর জুড়ে বিস্তৃত ফলতা ক্লাস্টারে যথেষ্ট পরিমাণে খালি জমি রয়েছে। উভয় স্থানই কলকাতা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। এমতাবস্থায়, ডেটা সেন্টার ও ভূমি অধিগ্রহণের জন্য রাজ্য সরকার নতুন নীতি প্রণয়ন করার পর বিনিয়োগ আলোচনা আরও গতি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

West Bengal is set to become India's new technology hub.

ইএমসি ২.০ প্রকল্প কী: উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পটি ২০২০ সালে চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে, রেডি-বিল্ট ফ্যাক্টরি শেডস এবং প্লাগ-এন্ড-প্লে পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রকল্প ব্যয়ের ৫০ শতাংশ (প্রতি ১০০ একরে সর্বোচ্চ ৭০ কোটি টাকার সীমা সহ) কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, এই প্রকল্পের আওতায় ১০ টি রাজ্যের ১৩ টি প্রকল্পের ১২৩ টি ভূমি বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে, যেহেতু এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সময়সীমা ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রের কাছে নির্দেশিকা চেয়েছে যে বিদ্যমান পুরনো পরিষেবাগুলিকে এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না সেই বিষয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, পুরোনো ইএমসি ১.০ সাইটের রাজ্য বাস্তবায়নকারী সংস্থা পরিকাঠামো উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় তহবিল চাইতে পারে।

আরও পড়ুন: অভিষেক ম্যাচেই দাপট মানব সুথারের! আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৬ উইকেট নিয়ে গড়লেন দুর্ধর্ষ রেকর্ড

কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে: এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার এই সম্প্রসারণে অনুমোদন দিলেও রাজ্য সরকারকে অত্যন্ত কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে। এই শর্তগুলি হল, ন্যূনতম জমির প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য বিদ্যমান ক্লাস্টারগুলির সংলগ্ন কমপক্ষে ১০০ একর জমি এবং বিদ্যমান ক্লাস্টারের বিক্রয়যোগ্য বা লিজ যোগ্য জমির কমপক্ষে ৮০ শতাংশ উৎপাদন ইউনিটের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। এছাড়াও, বরাদ্দ করা জমির নূন্যতম ৫০ শতাংশে অবশ্যই উৎপাদন শুরু হতে হবে।

আরও পড়ুন: তেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাশিয়া সহ ২২ টি দেশ! ভারতের ওপর পড়বে প্রভাব?

রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ: এমতাবস্থায়, রাজ্য সরকারের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ তথা প্রসেসের ক্ষেত্রে লাগা সময়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ জনসেবা অধিকার আইন, ২০১৩-র অধীনে সর্বোচ্চ ৫০ দিনের সময়সীমা থাকা সত্ত্বেও, মাত্র ৩ টি আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণে গড়ে ২৩৫ দিন সময় লেগেছে। সরকার এখন এই বিলম্ব কমানোর ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।