বাংলা হান্ট ডেস্ক:রক্তদান করাকে বলা হয় মহৎ কর্ম। রক্তদানের (Blood donation) জন্য বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়। কারণ অনেক গ্রুপের রক্ত দুর্মূল্য হয়। রক্তদানের জন্যই কিন্তু প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচে, তবুও কিন্তু রক্তদানে অনেকেই দ্বিধাবোধ করেন। অনেকেরই আশঙ্কা থাকে যে এতে শরীরের কোনও ক্ষতি হয়ে যাবে বা শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান অন্য কথা বলছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে বলে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মত।
রক্তদান (Blood donation) কেন দরকার?
রক্তদানের সময় যে ঘাটতি হয় তা দ্রুত পূরণ করতে শুরু করে শরীর। প্রথমে রক্তের তরল অংশ প্লাজমা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে। রক্তদানের পর লিভার গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন এলবুমিন পুনর্গঠন করতে শুরু করে, যেটা রক্তের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
রক্তের তরল অংশ দ্রুত স্বাভাবিক হলেও রোহিত রক্ত কণিকা পুরোপুরি পুনর্গঠন হতে বেশ সময় নেয়। এই লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হতে চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। তবে রক্ত দেওয়ার সাথে সাথে নতুন কণিকা তৈরির কাজ শুরু করে দেয় অস্থি মজ্জা আর শ্বেত রক্তকণিকা এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
অনেকেই আছেন যারা বলেন যে রক্ত দেওয়ার পর মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, দুর্বলতা দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ভ্যাসোভেগাল রিঅ্যাকশন। এতে সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ধীর হয় এবং মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ কিছুটা কমে আসে। তবে বিশ্রাম আর জলপানের দ্বারা এই উপসর্গ বেশিক্ষণ থাকে না। হালকা খাবার, বিশ্রাম ইত্যাদি শরীর পুনর্গঠনে কার্যকরী ভূমিকা নেয়। ফলে দ্রুত এই উপসর্গ থেকে বেরিয়ে আসে সম্ভব।
আরও পড়ুন:বিধানসভায় পাস নয়া বিল, ৩ বছরের আগে পঞ্চায়েতে আনা যাবে না অনাস্থা প্রস্তাব
আমেরিকান রেড ক্রস আর ডব্লুএইচও এর মতে সুস্থ মানুষের জন্য রক্তদান শুধু নিরাপদই নয়, সেই সঙ্গে নেতিবাচক কোন প্রভাবও এটি ফেলেনা শরীরে, বরং প্রাকৃতিক পুনর্গঠন ক্ষমতাকে আরো সক্রিয় করে তোলে। তাই রক্তদান নিরাপদ এবং সমাজের স্বার্থে রক্তদান খুব জরুরি। শুধু সমাজ নয় দেহের প্রাকৃতিক পুনর্গঠন ক্ষমতাকে সক্রিয় করার জন্য কিন্তু রক্তদান করা দরকার।
আরও পড়ুন:বদলে গেল পুরোনো নিয়ম! রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় স্বস্তি দিল অর্থ দপ্তর, জারি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি

রক্তদানের সময় কিন্তু অনেকেরই জল তেষ্টা পায় রক্তদানের সময় দাতাকে বেশি করে জল পান করিয়ে শরীর হাইড্রেটেড রাখা খুব প্রয়োজন। রক্ত যে প্লাজমা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে তা কিন্তু ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে রক্তদান নিরাপদ এবং এর জন্য দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই, বরং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে রক্তদান প্রয়োজন।












