বাংলা হান্ট ডেস্ক: রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) ভারতীয় ধনকুবের তথা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বহু প্রতীক্ষিত ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, সংস্থাটির বোর্ড জিও প্ল্যাটফর্মসের ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (Reliance Jio IPO)-র জন্য ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস (DRHP) অনুমোদন করেছে। যা শুক্রবারই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ায় (SEBI) দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের অন্যতম আলোচিত ও বহু প্রতীক্ষিত IPO-টি এখন বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
জিও-র IPO-র (Reliance Jio IPO) প্রসঙ্গে বড় ঘোষণা মুকেশ আম্বানির:
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, জিও-র প্রস্তাবিত IPO দেশের এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম পাবলিক অফারিং হতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, এটি NSE-র প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত IPO এবং হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়ার ২৭,৮৭০ কোটি টাকার IPO-কে ছাড়িয়ে যাবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ২৭ কোটি পর্যন্ত নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে।

কোম্পানির মূল লক্ষ্য হল ফ্রেশ ইস্যু করা: জানিয়ে রাখি যে, রিলায়েন্স প্রথমে অফার-ফর-সেল (OFS) মডেল বিবেচনা করলেও, পরে নতুন ফ্রেশ ইস্যুর পথ বেছে নেয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, IPO-র মাধ্যমে সংগৃহীত ফান্ড সরাসরি জিও-র কাছে যাবে এবং তা ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল পরিষেবা সেক্টরে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি, এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তাও দেয় যে, কোম্পানিটি বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে, মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমেই নিজেদের প্রসার ঘটাতে চাইছে। বার্ষিক সাধারণ সভায় মুকেশ আম্বানি বলেন যে, জিও-র লিস্টিং বিশ্বকে দেখিয়ে দেবে যে ভারত বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম। তিনি বলেন, রিলায়েন্স এবং তার শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে মূল সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে। পাশাপাশি জিও-র ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেও মনে করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ব্যবসায় মিলবে মোক্ষম ঝটকা! ভারত-ব্রিটেনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ঘুম উড়ল পাকিস্তান-বাংলাদেশের
শক্তিশালী পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে: উল্লেখ্য যে, এই IPO এমন এক সময়ে আসছে যখন জিও-র ব্যবসা ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মার্চ ত্রৈমাসিকে, কোম্পানির অপারেটিং রেভিনিউ ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪,৯২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। নিট মুনাফাও ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৯৩৫ কোটি টাকা হয়েছে। এদিকে, EBITDA ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অপারেটিং মার্জিন শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়াও, ট্যারিফ বৃদ্ধি এবং গ্রাহক পরিষেবার মান উন্নত হওয়ার কারণে ব্যবহারকারী প্রতি গড় আয় (ARPU) বেড়ে ২১৪ টাকা হয়েছে। এদিকে, গ্রাহক প্রতি মাসিক ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ হল ৪২.৩ জিবি এবং মোট ডেটা ট্রাফিক বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: আচমকাই বড় ঘোষণা BCCI-র! ভারত-আফগানিস্তান সিরিজে এন্ট্রি এই তারকা খেলোয়াড়ের
৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহক: জিও-র বর্তমানে ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। সংস্থাটি দেশজুড়ে দ্রুত তার 5G নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে ব্রডব্যান্ড, ক্লাউড পরিষেবা, এন্টারপ্রাইজ কানেক্টিভিটি, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রসারিত করছে। ২০২০ সালে, গুগল, মেটা, কেকেআর, সিলভার লেক এবং সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড সহ বেশ কিছু বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী জিও প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এই বিনিয়োগ রিলায়েন্সকে নেট ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করে এবং কোম্পানির পরবর্তী পবৃদ্ধির পর্যায়ের ভিত্তি স্থাপন করে। বিনিয়োগকারীরা এখন অধীর আগ্রহে SEBI-র অনুমোদন এবং IPO লঞ্চের টাইমলাইনের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, জিও-র লিস্টিং ভারতীয় পুঁজিবাজারের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকির। বিনিয়োগের আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
















