বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সোনালি গুহ (Sonali Guha) একটি পরিচিত নাম। ছাত্র পরিষদের রাজনীতি থেকে উঠে এসে দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। টানা চারবার সাতগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার এবং স্পষ্টভাষী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আজও নানা বিষয়ে অকপট মন্তব্য করতে দ্বিধা করেন না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য করেন সোনালি।
কী বলেছেন সোনালি গুহ (Sonali Guha)?
একের পর এক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্যে পালাবদলের পর চাপে পড়েছেন তৃণমূলের ‘যুবরাজ’। এই সময় অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বহু দুর্নীতি নিয়ে অভিষেকের হাজিরার প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন সোনালী গুহ। তিনি বলেন, “এটা তো হওয়ারই ছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছনে তো ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস নেই, কোনও আন্দোলনেরই ইতিহাস নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো কোটায় এমপি হয়েছেন। আমার সাতগাছিয়া কেন্দ্র তো ওঁর ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীনে। আজও তমাদার সেই কথাগুলো মনে আছে।”
সোনালি গুহর মতে, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবসানের নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, বরং স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন সিদ্ধান্তগ্রহণকারী। তাঁর কথায়, “দিদি সরিয়েছেন”। বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থাকে অবশ্যম্ভাবী পরিণতি বলেই মনে করেন তিনি।
বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রাক্তন সিপিএম নেতার জোড়াফুল প্রতীকে জয়ী হয়ে বিরোধী দলনেতার আসনে পৌঁছনো এখনও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সোনালি গুহর মতে, “তৃণমূল একটা মূল্যবোধ নিয়ে তৈরি হয়েছিল যে, সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করব, সিপিএমকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না। আজকে তৃণমূলটা ভাঙতে ভাঙতে সিপিএমের হাতেই চলে গেল। ঋতব্রতদের হাতেই কিন্তু মমতাদি একবার হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন দিল্লিতে। অমিত মিত্রর গায়ে হাত তোলা হয়।” এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সামনে রেখেই সোনালি মনে করেন, দলটি তার মূল আদর্শ থেকে অনেকটাই সরে এসেছে।
অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় তাঁর মুখে। কৃষি, শিক্ষা, পরিবহণসহ একাধিক ক্ষেত্রে নতুন সরকারের পদক্ষেপকে তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে তার আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশাবাদী তিনি। সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তবে তিনি কী করবেন? উত্তরে আবেগপ্রবণ হয়ে সোনালি বলেন, “আমি মমতাদিকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করব। ৩২ বছরের সম্পর্ক তো। হয়ত চোখ থেকে দু’ফোটা জলও পড়বে। তবে দিদিকে বলব, দিদি, তুমি একজন ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী ছিলে। আসলে এখন আর দলটার উপরে রাগ-অভিমান হয় না। শুধু দীর্ঘশ্বাস পড়ে!”

আরও পড়ুন :চাকরিপ্রার্থীদের জন্য খুশির খবর! নিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রীর
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন, ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছ থেকে দেখা অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ-অভিমান—সবকিছুর মিশেলে সোনালি গুহর বক্তব্য আজও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। একসময় যে দলের জন্য লড়াই করেছেন, সেই দলকে নিয়েই তাঁর হতাশা স্পষ্ট।













