‘স্টারলিঙ্ককে ভারতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে’! মাস্কের অভিযোগে তোলপাড়, কী বলল মোদী সরকার?

Published on:

Published on:

What did the Modi govt say regarding Musk's complaints about Starlink's entry into India?
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে স্টারলিঙ্কের (Starlink) প্রবেশ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টেসলা কর্তা তথা স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের (Elon Musk) অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিঙ্ককে ভারতের বাজারে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। বুধবার সমাজমাধ্যমে পরপর পোস্ট করে এমনই দাবি করেন মাস্ক। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তির নাম করেননি, তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই ধরনের বাধা দেওয়া হলে তা ভারতীয় জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধেও যায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে মাস্কের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতে (India) স্টারলিঙ্কের প্রবেশ ঘিরে মাস্কের অভিযোগ নিয়ে কি বলল মোদি সরকার

মাস্কের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যোগাযোগ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, ভারতের (India) টেলিকম ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনও সংস্থার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে না। মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সব পরিষেবা প্রদানকারীর জন্যই ন্যায্য এবং বৈষম্যহীন। ফলে স্টারলিঙ্ককে ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগকে সরকার মানছে না। কেন্দ্রের অবস্থান, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন-সহ টেলিযোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যেই পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ কোনও সংস্থার জন্য আলাদা করে বাধা তৈরি করার প্রশ্ন নেই বলেই স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ডুবিয়ে দিলো ইস্টবেঙ্গলকে! ডুরান্ডের বদলা নিয়ে IFA শিল্ড জিতলো মোহনবাগান

এদিকে ভারতের বাজারকে স্টারলিঙ্ক দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রযুক্তির বড় ভূমিকা থাকতে পারে। মাস্কের দাবি, স্টারলিঙ্ক এমন গ্রাহকদেরও উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে পারবে, যাঁদের কাছে প্রচলিত পরিষেবার খরচ তুলনামূলক বেশি। পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়াই এই প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য। ফলে কেবল বা মোবাইল টাওয়ারের পরিকাঠামো তৈরি করা কঠিন এমন এলাকাতেও সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্টারলিঙ্কের প্রযুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে লো আর্থ অরবিট বা LEO স্যাটেলাইট। সাধারণত পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে কয়েকশো কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা এই স্যাটেলাইটগুলির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই হাজার হাজার স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেই নেটওয়ার্ক আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড পরিষেবার পাশাপাশি কম পরিষেবা পাওয়া অঞ্চলে সংযোগ পৌঁছে দেওয়াই স্টারলিঙ্কের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তবে ভারতে পরিষেবা চালু করতে হলে দেশের লাইসেন্স, স্পেকট্রাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

What did the Modi govt say regarding Musk's complaints about Starlink's entry into India?

আরও পড়ুন: বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, এবার গোটা এলাকায় ‘হাই অ্যালার্ট’! জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা বাড়াল কেন্দ্র

ফলে মাস্কের অভিযোগের পর স্টারলিঙ্কের ভারতে (India) প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেলেও, বিষয়টি এখন মূলত সংস্থার দাবি বনাম কেন্দ্রের অবস্থানের জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। একদিকে মাস্ক বলছেন, প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থে তাঁর সংস্থার পথ আটকে দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে নয়াদিল্লির বক্তব্য, ভারতের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় কোনও পক্ষপাত নেই। আগামী দিনে স্টারলিঙ্ক কীভাবে ভারতীয় নিয়মকানুন মেনে পরিষেবা চালুর দিকে এগোয়, সেটিই এখন নজরে। কারণ ভারতের বিশাল বাজারে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সম্ভাবনা যেমন বড়, তেমনই পরিষেবা চালুর আগে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।