Durga Puja 2026 Live Updates

যুদ্ধবিরতির মতোই বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণাও ট্রাম্পের মুখেই! বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কি বলল কেন্দ্র?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগেই কেন ভারত (India)–আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘোষণায় বারবার ওয়াশিংটনই এগিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সংসদের বাইরে এই সমালোচনার জবাব দেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, আমেরিকা একতরফা ভাবে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই ট্রাম্প প্রথমে বিষয়টি ঘোষণা করেছেন।

আগে ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা নিয়ে কি বলল ভারত (India)?

সোমবার রাতে প্রথমে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। তার কিছু সময়ের মধ্যেই ট্রাম্প নিজের সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তিতে দু’দেশ সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, ভারতের চড়া শুল্কনীতির পালটা হিসেবে আগে যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন: “সংবিধান মানতে না পারলে দেশ ছাড়ুন” — হোয়াটসঅ্যাপ-মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, তাঁর ‘প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প’-এর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং শুল্কহার কমানোর সিদ্ধান্তের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সরকারি নথি সামনে আসেনি। বিরোধীদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়ে থাকে, তা হলে চুক্তিপত্র কোথায়, কারা তাতে সই করলেন এবং কেন সব ঘোষণা আমেরিকার প্রেসিডেন্টকেই করতে হচ্ছে?

এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে কারণ এর আগে অপারেশন সিঁদুরের সময়েও ট্রাম্প ওয়াশিংটন থেকে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন, যা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল বলে দাবি বিরোধীদের। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি ও মার্কিন আদালতে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে চাপের মুখে পড়েই এই চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পালটা জবাবে পীযূষ গোয়েল বলেন, রাহুল গান্ধী ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

What India said on Trump's trade deal post before Modi?

আরও পড়ুন:ছোট্ট এক গ্রামের ছেলে থেকে আজ ফিনটেক কিং, তাক লাগাবে Groww IPO ঘিরে ললিত কেশরের সাফল্যের কাহিনি

কেন্দ্রের তরফে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তুলনায় আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক এখন কম, যা ভারতের জন্য লাভজনক। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই চুক্তির সবিস্তার তথ্য প্রকাশ করা হবে এবং ভারত ও আমেরিকা যৌথ বিবৃতি দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করবে। আপাতত ট্রাম্পের আগাম ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও, সরকার এটিকে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থের দিক থেকেই দেখতে চাইছে।