বাংলাহান্ট ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের ভাবনা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং নতুন কিছু করার সাহসই ভবিষ্যতের পথ দেখাতে পারে। সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। চেন্নাইয়ে (Chennai) জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জেন জি (Gen-z)-র উদ্দেশে বলেন, বিশ্বের নানা সমস্যার সমাধান খুঁজে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তরুণদের মধ্যেই। তাই শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা বিশ্বের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই নিজেদের লক্ষ্য স্থির করা উচিত। মোদির কথায়, বর্তমান সময় তরুণদের সামনে নিজেদের দক্ষতা ও ভাবনাকে কাজে লাগানোর এক বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান স্পষ্ট হয়েছে।
দেশজুড়ে SIR নিয়ে আন্দোলনের মাঝে জেন জি-দের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিলেন মোদী (Narendra Modi)?
চেন্নাই সফরে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) প্রথমে মেট্রোর নতুন রুট উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি যোগ দেন জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে। সেখানেই পড়ুয়া ও তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, উন্নত ভারত গড়ার জন্য যে নতুন চিন্তাভাবনা ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন, তার প্রভাব শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা ভবিষ্যতে গোটা বিশ্বের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে বিশ্ব নানা সমস্যার মোকাবিলায় কার্যকর পথ খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাতে পারে। তাই নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবির আবহেই নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ! নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের
তরুণদের নির্ভয়ে চিন্তা করতে এবং নিজেদের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে উৎসাহিত করেন মোদি। তাঁর কথায়, প্রত্যেক তরুণের উচিত নিজের ভবিষ্যৎকে আরও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা। শুধু প্রচলিত পথে হাঁটলেই হবে না, প্রয়োজন হলে নতুন পথ তৈরি করার সাহসও রাখতে হবে। বড় স্বপ্ন দেখা, ভিন্নভাবে ভাবা এবং নিজের ধারণার উপর আস্থা রাখার উপর জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, আজকের তরুণদের সামনে এমন অনেক সুযোগ রয়েছে, যার সদ্ব্যবহার করতে পারলে তাঁরা দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। ‘এটাই তোমাদের সময়, এটাই তোমাদের সুযোগ’—এই বার্তার মধ্য দিয়েই নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
চেন্নাইয়ের মঞ্চ থেকে বিখ্যাত তামিল কবি, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজ সংস্কারক চিন্নস্বামী সুব্রহ্মণ্য ভারতীকেও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতীর চিন্তাভাবনা ও বাণী মানুষকে নির্ভয়ে বাঁচতে এবং অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করতে অনুপ্রাণিত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই পড়ুয়াদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ভয়কে জয় করে নিজেদের ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হবে। নতুন কিছু করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার আশঙ্কায় পিছিয়ে থাকলে চলবে না। বরং বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিশ্রম করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং সৃজনশীল চিন্তাকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা যুক্ত’, ‘ককরোচ’-দের আন্দোলনকে সমর্থন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদের
এদিকে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক চর্চাও অব্যাহত রয়েছে। শনিবার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়। রবিবারও কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টির তরফে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরেও রাজধানীতে তরুণদের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে মোদির (Narendra Modi) বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও তাঁর ভাষণটি মূলত পড়ুয়া ও যুবসমাজের সম্ভাবনা, উদ্ভাবন এবং বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই ছিল। নতুন প্রজন্মের ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই যে তাঁর বক্তব্যের অন্যতম মূল সুর, তা স্পষ্ট।














