রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল। প্রথম পর্যায়েই লক্ষাধিক মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। ইতিমধ্যে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নবান্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কয়েকজন উপভোক্তার হাতে প্রতীকী চেক তুলে দিয়ে প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্মে আয় সংক্রান্ত নথি
প্রথম ধাপে প্রায় ২৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি আগামী তিন মাস ধরে নিয়মিত উপভোক্তাদের তালিকা পর্যালোচনা করা হবে। প্রতি সাত দিন অন্তর নতুন আবেদন, সংশোধন এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে বলে জানিয়েছে বিজেপি সরকার।
এবার থেকে শুধুমাত্র অফলাইন নয়, অনলাইন মাধ্যমেও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ফলে বাড়িতে বসেই আবেদনপত্র ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে ফর্মে কী কী তথ্য দিতে হবে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা এবং প্রকল্পের জন্য যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্যগুলিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিবারের কোনও সদস্য আয়কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্সের আওতায় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য দিতে হবে। একইসঙ্গে যাঁদের প্যান কার্ড রয়েছে, তাঁদের নাম ও প্যান নম্বরও উল্লেখ করতে হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে পরিবারের প্রধান সদস্যসহ প্রত্যেকের পেশাগত অবস্থান জানাতে হবে। সরকারি চাকরি, বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা, স্বনিযুক্ত পেশা, কৃষিকাজ, শ্রমিক, পরিযায়ী শ্রমিক, খণ্ডকালীন কাজ কিংবা বেকার— কোন শ্রেণিতে তাঁরা পড়েন তা নির্দিষ্ট করতে হবে। এমনকি পরিবারে কতজন শিক্ষিত এবং কতজন অশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য রয়েছেন, সেই হিসাব চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখও করতে হবে।

আরও পড়ুন :বাড়ল বিপদ! কলকাতা হাইকোর্টে জোর ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
জানা গেছে, পরিবারের কোনও ব্যক্তি সরকারি পেনশন গ্রহণ করলে তার তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথিও জমা দিতে হতে পারে। পরিবারের কেউ GST-তে নথিভুক্ত থাকলে আবেদনপত্রে সেই তথ্য উল্লেখ করতে হবে। সেক্ষেত্রে GSTIN নম্বরও দিতে হবে। আবেদনকারীকে পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের বিবরণ। বছরে পরিবারের সম্মিলিত আয় কত, তা জানাতে হবে। আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। এতে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের সুবিধা পেতেও কোনও সমস্যা হবে না।













