সোনা-রুপো নয়! বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেরা উপায় কোনটি? জানালেন খোদ মুকেশ আম্বানি

Published on:

Published on:

Which is the best way to invest? Mukesh Ambani said
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: কয়েকদিনের পতনের পর, সোনা ও রুপোর দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছ। যার ফলে বিনিয়োগকারীরা ফের এই ধাতুগুলির ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে, বিনিয়োগের লক্ষ্যে এই মূল্যবান ধাতুগুলি আকৃষ্ট করলেও, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) বিশ্বাস করেন যে ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল দেশে সম্পদ তৈরির জন্য কেবল সোনা ও রুপোয় বিনিয়োগ করা সর্বোত্তম উপায় নয়। সম্প্রতি জিওব্ল্যাকরকের (JioBlackRock) এক অনুষ্ঠানে আম্বানি বলেন, গত বছর ভারত প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা এবং ১০-১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রুপো আমদানি করেছে। তিনি বলেন, এই অর্থের বেশিরভাগই এমন জিনিসে বিনিয়োগ করা হয় যা সরাসরি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু মানুষ কেবল সঞ্চয় হিসেবে তা জমা রাখেন। আম্বানির মতে, কঠিন সময়ে সোনা ও রুপো নিরাপত্তা প্রদান করে। কিন্তু, এগুলি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সরাসরি খুব বেশি অবদান রাখে না।

আম্বানি (Mukesh Ambani) শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আহ্বান জানান:

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ভারতীয় সঞ্চয়কারীদের শেয়ার বাজারের মতো মূলধন বাজারে বিনিয়োগ করতে রাজি করাতে পারি, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অর্থ বৃদ্ধি পাবে।’ আম্বানি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের উচিত তাঁদের সঞ্চয় এমন জায়গায় বিনিয়োগ করা উচিত যেখানে সেই বিনিয়োগ কেবল পড়ে থাকবে না। বরং ব্যবসা ও অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে।

Which is the best way to invest Mukesh Ambani said.

এদিকে, আম্বানির এহেন প্রতিক্রিয়া এমন এক সময় সামনে এসেছে সোনা ও রুপোর দাম ঊর্ধ্বমুখী। এটি ভারতীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিনবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, এই ধাতুগুলি মূল্যবান সম্পদ। বিশেষ করে অর্থনীতির অনিশ্চিত সময়ে এগুলির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু, আম্বানি যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে, সোনা ও রুপো বিনিয়োগকারীদের অর্থ মূল্য সংরক্ষণ করতে পারে, কিন্তু সেগুলি উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মতো নতুন মূল্য তৈরি করে না।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন: আম্বানি জানান যে, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা অর্থ কোম্পানি থেকে শুরু করে পরিকাঠামো এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করা হয়। যখন কোম্পানিগুলি বৃদ্ধি পায়, মুনাফা অর্জন করে এবং সম্প্রসারিত হয়, তখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে থাকেন। মুকেশ আম্বানির মোট, এটি ভারতের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য পরবর্তী বড় সুযোগ। বিশেষ করে যখন দেশটি বহু দশকের বৃদ্ধির পর্যায়ে প্রবেশ করছে।

আরও পড়ুন: ৫০০ কিমি রেঞ্জ, ৭ টি এয়ারব্যাগ! দৈনিক ১০,০০০ বুকিং, Maruti Suzuki-র এই SUV-র জন্য ক্রেতাদের হুড়োহুড়ি

জিওব্ল্যাকরক: এদিকে, আম্বানি আর্থিক পরিষেবার ক্ষেত্রে বিশাল সুযোগের কথাও বলেন। তিনি জিওব্ল্যাকরক-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। যা রিলায়েন্স এবং বিশ্বের বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ। আম্বানি বলেন, যদিও আজকাল পরিবর্তন আনা ফ্যাশন হয়ে উঠেছে, তবে, আসল মনোযোগ ভারতের বিনিয়োগ বাজারে বিদ্যমান বিশাল এবং অব্যবহৃত সুযোগগুলির ওপর রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের লক্ষ্য রাতারাতি ব্যবস্থা পরিবর্তন করা নয়, বরং লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের কাছে বিনিয়োগকে সহজ, নিরাপদ এবং সহজলভ্য করে তোলা।

আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপের আগে চিন্তা বাড়ল টিম ইন্ডিয়ার! চোটের সম্মুখীন এই তারকা প্লেয়ার

দেশের অর্থনীতির প্রসঙ্গে কী জানান: আম্বানি বলেন, ভারত তার শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা, স্থিতিশীল নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক নীতির কারণে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তিনি ভারতের অর্থনীতিকে এমন একটি ফলপ্রদানকারী গাছের সঙ্গে তুলনা করেন যেটি সবাইকে আকৃষ্ট করে। ব্ল্যাকরকের চেয়ারম্যান এবং সিইও ল্যারি ফিঙ্কের সঙ্গে কথোপকথনে, মুকেশ আম্বানি ভারতের বৃদ্ধির যাত্রা সম্পর্কে কথা বলেছেন। যেখানে তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি। আম্বানির মতে, ৮-১০ শতাংশ বৃদ্ধির হার অর্জন করা সম্ভব এবং সেটি বজায় রাখাও সম্ভব।