বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক নানা প্রকল্প নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় এবার উঠে এল ‘দুয়ারে রেশন’ (Duare Ration) কর্মসূচির নাম। তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া এই পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রেশন ডিলারদের একাংশের অসন্তোষ ছিল। এবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে এনে প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সরব হল একাধিক ডিলার সংগঠন।
বন্ধের পথে ‘দুয়ারে রেশন প্রকল্প'(Duare Ration)
‘জয়েন্ট ফোরাম ফর ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর বৈঠক থেকে ‘দুয়ারে রেশন প্রকল্প’ বন্ধ করার দাবি করা হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক রতন সাউ জানান, রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি সংগঠন একত্রিত হয়ে এই ফোরাম তৈরি করেছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি এই পরিষেবার ফলে ডিলারদের কাজের পরিধি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট দোকান থেকেই রেশন বিতরণ করা হত, এখন খাদ্যসামগ্রী বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অতিরিক্ত দায়িত্বও নিতে হচ্ছে।
‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের ফলে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনই লজিস্টিক সমস্যাও ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বলেই দাবি সংগঠনের। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও কর্মীর অভাবে পরিষেবা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে এই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল। রতন সাউয়ের কথায়, খুব শীঘ্রই খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে এই প্রকল্প পুনর্বিবেচনার আবেদনও জানানো হবে।
উল্লেখ্য, অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন এই প্রকল্প বন্ধের দাবিতে ইতিমধ্যেই তাঁদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এই প্রকল্পে সাধারণ গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে না, বরং সরকারের অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই ব্যবস্থার কারণে ডিলারদের নানারকম প্রশাসনিক ও আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুন :তৃণমূলের কাকলিকে আমন্ত্রণ, কারা এই ‘বিশেষ বিশেষ সাংসদ’? মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে শুরু জল্পনা
রেশন ডিলারদের একাংশের মতে, গণবণ্টন ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে হলে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি বদল প্রয়োজন। এখন নজর নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে। ডিলার সংগঠনগুলির এই দাবি নিয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার। নতুন সরকার আসতে চলতি ‘দুয়ারে রেশন প্রকল্প’ কী সত্যিই বন্ধ হয়ে যাবে তা বলবে সময়।













