বাংলা হান্ট ডেস্ক : জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ (National Song) নিয়ে এবার দেশজুড়ে আরও কড়া হচ্ছে নিয়ম। স্কুলের প্রার্থনা, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান-যে কোনও জায়গায় জাতীয় গান পরিবেশন করা হলে তার মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বিশেষ করে ১১ অগস্ট থেকে জাতীয় গানের অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনার পর এই নিয়মগুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে পড়ুয়া থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান আয়োজক—কীভাবে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশন করতে হবে, তা জানা সকলের প্রয়োজন।
জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ (National Song) গাইতে মানতে হবে বিধি
জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি স্কুলগুলিতে জাতীয় গান গাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই কারণেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় প্রতিদিন কাজ শুরুর আগে পড়ুয়াদের একসঙ্গে স্কুল প্রাঙ্গণে জাতীয় গান গাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। তবে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছেমতো কোনও অংশ বেছে নেওয়া যাবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্ধারিত সরকারি সংস্করণেই গানটি পরিবেশন করতে হবে। ওই সংস্করণে ছ’টি স্তবক রয়েছে এবং পুরোটা গাইতে সময় লাগে আনুমানিক ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। কোনও অনুষ্ঠানের শুরু বা শেষে সরকারি সংস্করণ গাওয়া হলে সম্পূর্ণ ছ’টি স্তবকই পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক।
একই অনুষ্ঠানে যদি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ এবং জাতীয় সঙ্গীত’জনগণমন’-দুটিই রাখা হয়, সেখানেও নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে গাইতে হবে জাতীয় গান এবং তার পর জাতীয় সঙ্গীত। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত অনুষ্ঠানগুলিতেও জাতীয় গান পরিবেশনের বিশেষ বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল উপস্থিত রয়েছেন এমন সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কোনও প্যারেডে জাতীয় পতাকা নিয়ে আসার সময়ও জাতীয় গান পরিবেশন করতে হবে। ফলে শুধু স্কুল বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতেও এর নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আবার ব্যান্ডের মাধ্যমে গানটি পরিবেশন করলে সরাসরি ‘বন্দে মাতরম্’ শুরু করা যাবে না। তার আগে ধীর গতিতে নির্দিষ্ট সময় ড্রাম বাজানোর নিয়ম রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের আগে থেকেই জানান দেওয়া যে জাতীয় গান শুরু হতে চলেছে। এরপর নিয়ম মেনে মূল গান পরিবেশন করা হবে।
পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান, বড় সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এবং প্যারেডেও সমবেত ভাবে জাতীয় গান গাওয়ার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। আগে থেকেই সমবেত গানের দল তৈরি করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে দর্শকাসনে বসা মানুষদেরও গানটির কথা দেওয়া যেতে পারে, যাতে তাঁরা সমবেত ভাবে গানে অংশ নিতে পারেন।
‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের সময় শ্রোতাদের আচরণ নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। প্রকাশ্যে সরকারি সংস্করণটি গাওয়া হলে উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি অনুষ্ঠানের মধ্যেই জাতীয় গানকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। যে কোনও অনুষ্ঠানে এটি পরিবেশন করা যেতে পারে, তবে গানটির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে এবং নির্ধারিত বিধি মেনেই তা করতে হবে।

আরও পড়ুন : পুজোর ছুটিতে অফবিট পাহাড়ের খোঁজে? প্রিয়জনের সঙ্গে ঘুরে আসুন তোদে-তাংতা
উল্লেখ্য, জাতীয় গানকে ঘিরে এবার শুধু আবেগ নয়, তার সঠিক পরিবেশন ও মর্যাদা রক্ষার উপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কুলের ছোট অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কর্মসূচি—’বন্দে মাতরম্’ কোথায় এবং কীভাবে গাওয়া হবে, তার জন্য নির্দিষ্ট কাঠামোই অনুসরণ করতে হবে। ১১ অগস্টের পর অবমাননা শাস্তিযোগ্য হওয়ায় এই নিয়মগুলি মেনে চলার গুরুত্বও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেল।













